স্বরূপকাঠীতে শশুরবাড়ীতে বেড়াতে গিয়ে চোর সন্দেহে মার খেলেন জামাই …
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় শশুরবাড়ী বেড়াতে গিয়ে চোর সাব্যস্ত হয়ে বউয়ের চাচাতো ভাইয়ের হাতে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হলেন তালেব মিয়া নামে এক হতভাগা জামাই। ওই হতভাগা জামাইয়ের বউয়ের নাম আনিকা হাওলাদার। আর বউ এর চাচাতো ভাই নির্যাতনকারীর নাম শাকিল হাওলাদার। শাকিল তার চাচাতো বোনের জামাই তালেব মিয়ার হাত পা বেঁধে রাতভর বেদড়ক পিটিয়েছেন। পরে সকালে তালেবের মাকে খবর দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে ছেলেকে তার হাতে তুলে দেয়া হয়। আর এ ঘটনায় শাকিলকে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্যের ছেলে জাকারিয়া।
গত ৬ মে উপজেলার পশ্চিম সোহাগদল গ্রামের বাদশা ফকিরের বাড়ীতে রাতভর এমন অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার তালেব মিয়া নেছারাবাদ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। মার খাওয়া যুবক তালেব পেশায় একজন ট্রলার চালক।
বাড়ীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তালেব অভিযোগ করে জানায়, চার বছর আগে পশ্চিম সোহাগদল গ্রামের রশিদ হাওলাদারের মেয়ে অনিকার সাথে তার বিবাহ হয়। আত্মীয়তার সুবাধে স্ত্রী আনিকার চাচাতো ভাই শাকিল তার বাসায় বিভিন্ন সময় আসা যাওয়া করতো। এ নিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তাদের সংসারে কলহ দেখা দেয়। তাদের সংসারে শাকিলের অবাধে যাতায়াত তার চোখে সন্দেহের জমাট বাধে। এরই ধারাবাহিকতায় একদিন নিজের ঘরেই স্ত্রী আনিকা ও তার চাচাতো ভাই শাকিলকে একসাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায় তালেব। বিষয়টি শশুরবাড়ীর এলাকার মেম্বরের ছেলে জাকারিয়াকে জানানো হয়। তখন জাকারিয়া লোক দেখানো সালিশ বৈঠক করে আনিকাকে তার হাতে দিয়ে দেয়। এর কিছু দিন যেতে না যেতেই আনিকা একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সংসারে ঝগড়া করে বাবার বাড়ীতে চলে যায়।
তালেব বলেন, গত রবিবার রাতে স্ত্রীর আনিকার ফোন পেয়ে রাতে শশুর বাড়ীতে যায়। বাসায় যাওয়ার পথে পথিমধ্যে ওৎ পেতে থাকা শাকিল ও তার লোকজন তালেবকে চোর বলে ধরে খুঁটির সাথে বেধে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। সকালে তার মা খবর পেয়ে ছুটে এলে মেম্বারের ছেলে জাকারিয়া এলাকার চৌকিদার নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেয়।
এ বিষয় অভিযুক্ত শাকিল জানায়, তালেবকে কোন রকম নির্যাতন করা হয়নি। তার স্বভাব চরিত্র ভালো নয়। তাকে রাতে আমাদের বাড়ীতে ঘোরাফেরা করতে দেখে চোর বুঝে ধরেছিলাম মাত্র।
নেছারাবাদ থানার ওসি আবির মোহাম্মাদ হোসেন বলেন, এ বিষয় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন নেয়া হবে।
