প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে লোহার পুলের লাখ লাখ টাকার মালামাল বেহাত হয়ে যাচ্ছে

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার বিভিন্ন খালের ওপর থেকে উত্তোলন করা পুরাতন লোহার পুলের মালামালের একটি অংশ বেহাত হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর পুল স্থানান্তরের নামে লাখ লাখ টাকার লোহা লক্কর আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডি, ত্রাণ দপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা খালের উপর গার্ডার (পাকা) ব্রিজ নির্মান করেন। আর সেখানে থাকা পুরাতন পুলের রেল পোস্ট, জয়েস্টসহ মূল্যবান লোহা লক্কর তালিকা করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু পুরাতন মালামাল উত্তোলন করার পর থেকে ধাপে ধাপে এর একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়। কিছু জনপ্রতিনিধি, এলজিএসপিসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজে পুরাতন মালামাল কৌশলে ব্যবহার করে অথবা বিক্রি করে আর্থিক সুবিধা কামিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও কিছু মালামাল বছরের পর বছর পরিত্যাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখার কারণে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

গত ১৫ বছরে এ উপজেলায় অন্তত শতাধিক লোহার পুলের জায়গায় পাকা পুল নির্মান করা এবং বড় মাপের পুরাতন পুল মেরামত করা হয়েছে। ওইসব পুরাতন পুলের মালামাল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তদারকির অভাবে একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব মালামালের সঠিক হিসাব দিতে চাচ্ছেন না স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন দপ্তর খালের ওপর নতুন গার্ডার ব্রিজ নির্মান করতে গিয়ে পুরাতন পুলের মালামাল স্থানান্তর করেন। উত্তোলন করা ওইসব মালামাল ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় দেয়া হয়। পরে ওই মালামাল দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামের ছোটখাট খালে পুল নির্মান করেন। এলজিএসপিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকায় ইউনিয়ন পরিষদের বাস্তবায়িত কাজের সাথে পুরাতন মালামাল ব্যবহার করে অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হন জনপ্রতিনিধিরা। ২৫/৩০ মিটারের বড় পুলের মালামাল দিয়ে নতুন জায়গায় পুল নির্মানের আর্থিক সক্ষমতা বেশীরভাগ ইউপির নেই।

গুয়ারেখা ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার ঠাকুর বলেন, সম্প্রতি তার ইউনিয়নের ৩০/৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে তিনটি বড় পুল তুলে ফেলা হয়েছে। ৩০/৩৫ মিটারের ওই পুলের মাল দিয়ে একই মাপের নতুন পুল নির্মান করতে হলে প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা তার পরিষদের নেই। ছোট খাট প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উপজেলা রাজস্ব খাত থেকে বছরে ২/৩ লাখ টাকার বরাদ্ধ পেলেও তা দিয়ে বড় পুল নির্মান করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বছরের পর বছর লোহা লক্কর পরিত্যাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে সুযোগমত বিক্রি করে দেন। ওয়েল্ডিংসহ মেরামতের নাম করে পুলের মালামাল বিভিন্ন ওয়ার্কসপে নিয়ে সহজে বিক্রি করার সুযোগ থাকায় কোনো জবাবদিহিতা করতে হয় না।  সেহাংগল শশিত সড়কের অন্তত ২০টি ছোট বড় লোহার পুল তুলে ফেলা হয়। সেসব পুলসহ সমদেয়কাঠি ইউনিয়নে অন্তত ২৫/৩০টি পুলের মালামালের কিছু অংশ পরিষদ ভবনে পড়ে আছে প্রায় ১০ বছর ধরে। সোহাগদল ইউনিয়নের ১৫/২০টি পুলের কয়েক লাখ টাকার মালামাল বরছাকাঠি ভূমি অফিসের পাশে পড়ে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। উত্তোলন করা এসব পুলের বাকী মালামাল কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে তার মনগড়া হিসাব দিচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান এমকে সবুর তালুকদার ও আব্দুর রশিদ।

এ বিষয় এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মীর আলী শাকির বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ওইসব মালামাল ইউপির কাছে তালিকা করে হস্তান্তর করা হয়। বড় মাপের পুলের মালামাল দিয়ে এডিপিতে স্কীম দিতে চেয়ারম্যানদের অনুরোধ করা হলেও তারা সে ভাবে স্কীম দেয় না। তবে এসব মালামাল দিয়ে কি কাজ করানো হয় অথবা আদৌ কাজ হয় কিনা তার কোনো হিসাব আমাদের কাছে নেই।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial