প্রধান সূচি

বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার ব্যর্থতাই দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান ঘটিয়েছে : শ ম রেজাউল করিম

স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার ব্যর্থতাই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।
আজ শনিবার বিকেলে ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরোধীতা, রাষ্ট্রদ্রোহিতা তুল্য অপরাধ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে রাজধানীর বেইলী রোডের সরকারি বাসভবন থেকে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সঞ্চালনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, শহীদজায়া পান্না কায়সার, শহীদ সন্তান আসিফ মুনীর, দীপক কুমার, আব্দুল হাই, লক্ষ্মী চ্যাটার্জী প্রমুখ ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করেন।
এসময় মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সে ঘোষণাটি ১০ এপ্রিল গঠিত স্বাধীন বাংলা সরকার তথা মুজিব নগর সরকার অনুমোদন দেয় এবং এ আলোকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচারের কথা উল্লেখ করা ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রণয়নও অনুমোদনের পূর্ব পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্রই ছিল অন্তরবর্তীকালীন সংবিধান। তার ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলা সরকার। সে সরকারের সঙ্গেই ভারতের মৈত্রী চুক্তি হয়।
মন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ভিত্তি ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা। এ ঘোষণা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আমাদের সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মোশতাক ও পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এলেও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তারা কোন বিতর্ক তোলেন নি। কিন্তু জিয়ার মৃত্যুর পরে তার তৈরি বিএনপিতে স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের সম্পৃক্ত করার পরই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমানের কথিত স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠকে ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বাইরে ২৬ বছর ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো সুপরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধুর কীর্তিকে ছোট করে জিয়াকে বড় বানানোর জঘন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাধীনতা বিরোধী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে না পারাই অন্যতম কারণ। স্বাধীনতা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নানা মত ও দলে বিভক্ত হলেও স্বাধীনতাবিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে কঠিনভাবে।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যেভাবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিল, স্বাধীনতা পরবর্তীতে তাদের কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা ও পুনর্গঠনে ভূমিকা না রেখে বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছিল। সেই সুযোগে স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশী চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে হত্যা করেছিল। এ জন্য সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলকে একাত্তর সালের মতো ঐক্যবদ্ধ হবার তাগিদ দিচ্ছে।
ওয়েবিনারের প্রধান বক্তা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যকে কোমলমতি শিশু থেকে শুরু করে সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন এ সময় প্রদত্ত বক্তব্যে আমলা ও ব্যবসায়ীদের খপ্পরে রাজনীতি আটকে পড়েছে উল্লেখ করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবী করেন।
বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী এ সময় তার বক্তব্যে অবিলম্বে মামুনুল হক ও বাবু নগরীদের গ্রেফতারের দাবী জানান।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial