মঠবাড়িয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীর স্ত্রীকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ॥ ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা
আগামী ১১ এপ্রিল প্রথমধাপে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর স্ত্রী শারমিন জাহানকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা মোশারেফ হোসেন শরীফ। পূর্বে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তিনি এবার মনোনয়ন পাবেন না বলে তার স্ত্রীকে কৌশলে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছে দলের একটি পক্ষ। এ ঘটনার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর শারমীন জাহানের মনোনয়ন বাতিল করার দাবি জানিয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার বরাবর চিঠি দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে ও নেতা-কর্মীরা জানান, উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া শারমীন জাহানের স্বামী মো. মোশারেফ হোসেন শরীফ ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। মোশারেফ হোসেন শরীফ ওই নির্বাচনে পরাজিত হন।
গত ৭ মার্চ উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো ৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় শারমীন জাহানের নাম পাঠানো হয়। এরপর দলীয় মনোনয়ন পান শারমীন জাহান। শনিবার রাতে শারমীনের মনোনয়ন প্রকাশের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।
নেতা-কর্মীরা মনে করেন দলীয় কোন পদ পদবীতে না থাকলেও রহস্যজনক কারণে শারমীন জাহানের নাম তালিকায় অন্তভূক্ত করে পাঠানো হয়। তবে তার মনোনয়ন লাভের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহীদের উৎসাহিত বা পুরস্কৃত করার নজির সৃষ্টি হবে। যা ভবিষ্যতে দলের জন্য ক্ষতিকর।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সুলতান মিয়া বলেন, ২০১৬ সালে আমি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করি। তখন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেন শরীফ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আমি পরাজিত হই। নির্বাচনে আমি দ্বিতীয় ও মোশারেফ তৃতীয় হন। আমাকে দল মনোনয়ন না দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর স্ত্রীকে নৌকা প্রতীক দেওয়ায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। তিনি আরও বলেন শারমীন জাহানের দলীয় কোন পদ নেই। সে রাজনীতিও করেন না।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল ইসলাম রাজু বলেন, আমি দলের মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তবে দলের একটি মহল মোশারেফ শরীফের স্ত্রী শারমীন জাহানের নাম প্রার্থীর তালিকায় পাঠান। আর চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে তালিকায় শারমীনের স্বামীর নাম উল্লেখ না করে বাবার নাম দেওয়া হয়। তবে শারমীনের বাবা শামীম আখতার জামায়াতে ইসলামী’র দলীয় লোক ছিলেন। আওয়ামী লীগে শারমীন জাহানের কোন পদ পদবী নেই। তিনি আওয়ামী রাজনীতির সাথেও যুক্ত নন। আমরা শারমীনের মনোনয়ন বাতিলের দাবি করছি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মাতুব্বর বলেন, শারমীন জাহানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দলের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়েছি। শারমিন জাহান দলের কোন পদে নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মঠবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র মো. রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস জানান, নারীর ক্ষমতায়ণকে বেগমান করার লক্ষেই দল থেকে শারমীন জাহানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শারমীন জাহানের স্বামী মোশারেফ শরীফ বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বলে জানি। আর শারমীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষযক সম্পাদক বলে জানি।
