বাগেরহাট পৌরসভা নির্বাচন
খান হাবিবুর রহমান আবারো পৌর মেয়র নির্বাচিত
বাগেরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আবারো খান হাবিবুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক খান হাবিবুর রহমান এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছর একটানা পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবারো তিনি নির্বাচিত হলেন। নির্বাচনে খান হাবিবুর রহমান নৌকা প্রতিক নিয়ে ১৮ হাজার ৮৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাইদ নিয়াজ হোসেন শৈবাল পেয়েছেন ৩৩৮ ভোট।
সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাগেরহাট পৌরসভা নির্বাচনে প্রথম বারের মতো ইভিএমে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুশি পৌরসভার ভোটারবৃন্দ। মহিলা, শত-বছরের বৃদ্ধসহ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। সকাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, পূর্ব বাসাবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী খান হাবিবুর রহমান সকাল ৯টায় নাগের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দে ভোট প্রদান করেন। বাগেরহাট পৌরসভায় ৩৮ হাজার ২০০ জন ভোটারের মধ্যে ১৯ হাজার ২৩৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৫টি কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রে ৭ জন পুলিশ, ৯ জন আনছারসহ দুই প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ৪টি মোবাইল টিম, পুলিশের ১৫টি মোবাইল টিম, দুটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৯ জন নির্বাহী ও একজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত ছিল।
৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তার মধ্যে ১নং ওয়ার্ডে সরদার শামিম আহসান, ২নং ওয়ার্ডে মনিরুজ্জামান বিকম, ৩নং ওয়ার্ডে খান আবু-বক্কর সিদ্দিক, ৪নং ওয়ার্ডে কাজী তৌহিদুর রমান, ৮নং ওয়ার্ডে রেজাইর রহমান মন্টু, ৯নং ওয়ার্ডে ফারুক তালুকদার নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ৫, ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডে য়াথাক্রমে আবুল হাশেম শিপন, তালুকদার আব্দুল বাকি এবং শাহ-নেওয়াজ মোল্লা দোলন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ৩টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১,২,৩নং ওয়ার্ডে আসমা আজাদ, ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডে তানিয়া খাতুন ও ৭,৮,৯নং ওয়ার্ডে কোহিনুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
রবিবার দুপুর ২টায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী সাঈদ নিয়াজ হোসেন শৈবল। প্রকাশ্যে ভোটারদের ভোট দিতে বাধ্য করা, এজেন্টেদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে তিনি বাগেরহাট সরকারী পিসি কলেজ কেন্দ্রে ১১টায় নিজের ভোট দেন। পরে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরাজী বেনজীর আহমেদ বলেন, কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ও অভিযোগ ছাড়া শান্তিপূর্নভাবে সকল কেন্দ্রের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী খান হাবিবুর রহমান ১৮ হাজার ৮৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি সাঈদ নিয়াজ হোসেন শৈবল পেয়েছেন ৩৩৮ ভোট। বিএনপির প্রার্থী কি কারণে ভোট বর্জন করলেন তা আমার জানা নেই। ভোট বর্জনের বিষয়ে তিনি লিখিত বা মৌখিক কোন প্রকার অভিযোগ আমাকে করেননি।
