ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে পাইকগাছার পাটের আবাদ ক্ষতিগ্রস্থ
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে পাইকগাছার কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাটের আবাদে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ৩/৪ ফুট উঁচু পাটক্ষেত ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। পাট গাছ মাটিতে নুঁয়ে পড়েছে ও ভেঙ্গে পাট ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর ফলে পাট চাষী পাটের আবাদ নিয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।
গত বছর পাটের দাম কিছুটা ভাল হওয়ায় এ বছর পাইকগাছা উপজেলায় পাটের আবাদে চাষীরা আগ্রহী হয়েছে। তবে ঝুর্ণিঝড় আম্পানে পাট চাষীদের আশা হতাশায় পরিনত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে উফশী ৩৫০ হেক্টর ও স্থানীয় ৫ হেক্টর।
লবনাক্ত পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী, পৌরসভার জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলার মঠবাটী গ্রামের আব্দুল করিম জানান, পাট চাষের শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে পাট চাষের জন্য জমিতে জো’ না থাকায় সময়মত পাট বীজ বিপন করতে পারেনি। তবে কিছু কৃষক যেখানে পানি সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে সেখান থেকে পানি সেচ দিয়ে পাট বপন করেছে। পরবর্তীতে বৃষ্টি হওয়ায় পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে পাটক্ষেত তচনচ করে দিয়েছে। পাট চাষী পাটের আবাদের খরচের টাকা বাঁচানো কষ্ট হয়ে পড়বে।
কৃষক সবুর জানান, পাট আবাদ করার পরে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কারণ দিন দিন ডোবা ও জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়া জায়গা পাওয়া যায় না। একই স্থানে একাধিকবার পাট জাগ দিতে হয়। এতে সময়মত পাট জাগ দিতে না পারায় পাটের আঁশ ভাল পাওয়া যায় না। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতি স্বীকার হতে হয়। কৃষকরা তোষাও ৯৮ ও ৯৭, দেবগ্রী ও বঙ্কিম জাতের বীজ বেশি বপন করেছে। পাটক্ষেত বিশেষ পাঠ প্রায় ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পাটের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে আগাম লাগানো পাটক্ষেত্রের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে, তবে নাবিতে লাগানো পাটক্ষেতের আবাদ ভালো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পাটক্ষেত পরিচর্যা করলে পাট গাছ থেকে আশানুরূপ পাটের আঁশ পাওয়া যাবে। তবে পাটকাঠির দাম বেশি থাকায় চাষীদের ক্ষতির পরিমান অনেকটা কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
