বাগেরহাটে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৮
বাগেরহাটে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বাগেরহাট সদর হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের খাউলিয়া ফুটবল মাঠে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাপ্পারাজ মিনা বাপ্পি ও শিক্ষক শ্রমিকলীগ কর্মী সাইদুল শেখ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের বিষয়ে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।
ইউপি সদস্য গ্রুপের আহতরা হলেন, ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাপ্পারাজ মিনা বাপ্পি, কবির সরদার, সাইফুল জমাদ্দার, নেছার উদ্দিন, অহিদুজ্জামান, আল আমিন সরদার, মইনউদ্দিন মিনা, মাহতাব শেখ। এদের মধ্যে অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় বাপ্পারাজ মিনা বাপ্পি, কবির সরদারকে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সাইফুল জমাদ্দারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্কুল শিক্ষক গ্রুপের আহতরা হলেন, শিক্ষক সাইদুল শেখ, বেমরতা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সেক্রেটারি সোহেল শেখ, জুয়েল শেখ, মাসুম শিকদার, আরাফাত হোসেন নিউটন, আজাদ হাওলাদার, ইদ্রিস শেখ, কামরুল শেখ, জাহিদুল সরদার, তহিদুল সরদার।
ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাপ্পারাজ মিনা বাপ্পি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ঈদের পরের দিন এলাকার ৮ শতাধিক মানুষকে রান্না করা খাবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। রান্নার জন্য খাউলিয়া ফুটবল মাঠকে নির্বাচন করা হয়। সোমবার বিকেলে পরিবেশ দেখতে আমরা কয়েকজন খাউলিয়া মাঠে যাই। সেখানে পূর্বে থেকে অবস্থান নেওয়া স্কুল শিক্ষক সাইদুল শেখ, নুরুল ইসলাম ডাকুয়া, বেমরতা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সেক্রেটারি সোহেল শেখ, মাসুম শিকদারসহ ২০-২৫ জন আমাদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে লাঠি, লোহার রড দিয়ে আমাদের এলোপাথারি মারপিট শুরু করে। আমরা যাতে দৌঁড়ে পালাতে না পাড়ি সে জন্য মরিচের গুরো ছুড়ে মারে আমাদের চোখে। ওদের মারপিটে আমিসহ ৮জন গুরুত্বর আহত হয়েছি।
স্কুল শিক্ষক সাইদুল শেখ বলেন, দুপুরের পরে স্থানীয় কিছু লোকসহ আমরা খালকুলিয়া ফুটবল মাঠের পাশে শ্রমিক লীগের অফিসে ছিলাম। হঠাৎ করে ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম, বাপ্পি, বাপ্পির ভাই আশরাফুলের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন লোক এসে আমাদের উপর হামলা করে। এতে বেমরতা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সেক্রেটারি সোহেল শেখসহ আমরা ১০ জন আহত হই। এ আগেও বাপ্পির নেতৃত্বে এলাকায় আমাদের উপর একাধিকবার হামলা হয়েছে। তারা বরাবর স্থানীয় মানুষদের অত্যাচার করে থাকেন।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহতাব উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কোন পক্ষ এখনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
