প্রধান সূচি

সুন্দরবনে পর্যটক ভ্রমণ সাময়িক বন্ধ ॥ নদী পারাপারে কম যাত্রী বহনের নির্দেশ

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে দেশী বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে পুরো সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে বনবিভাগ।

করোনা ভাইরাস আতংকে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পর্যটক দল সুন্দরবনের তাদের ভ্রমণ বাতিল করেছে। গত সপ্তাহ থেকে পরবর্তী নিদের্শ না দেয়া পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবন জুড়ে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দর ও সুন্দরবনে পর্যটকদের আগমন মারাত্মকভাকে কমতে থাকে। এতে স্থানীয় ট্যুরিস্ট ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন। এমতাবস্থায় সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতরা।

এদিকে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বনের অভ্যন্তরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে থাকা দর্শনার্থীরা। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শে সাময়িকভাবে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মোংলায় বিদেশ ফেরত ২১৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টানে রাখা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি বিদেশ থেকে আসা এ সকল লোকজনকে তাদের নিজ নিজ বাড়ীতে থাকতে বলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত মান্নান। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণরোধে বিদেশ থেকে আসা লোকজন যাতে নিজ বাড়ী-ঘর থেকে বের না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং ওই এলাকাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সজাগ রয়েছেন এলাকাবাসীও। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কেউ বাইরে ঘুরাঘুরি করলে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত  মোংলায় আসা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, বাহারাইন ও ভারত থেকে আসা ২১৯জনের তালিকা করা হয়েছে। তাদের সকলকে নিজ বাড়ীতে/ হোম কোয়ারেন্টানে রাখা হয়েছে। কেউ হোম কোয়ারেন্টানের বাইরে এলে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জীবিতোষ বিশ্বস বলেন, এ পর্যন্ত মোংলায় কারো করোনা শনাক্ত হয়নি। এমনকি বিদেশ ফেরতদের মধ্যেও কারো করোনা শনাক্ত হয়নি। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরা সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।

অপরদিকে, স্থানীয় প্রশাসন থেকে মোংলা নদী পারাপারে কম যাত্রী বহনের নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইপিজেড, কাষ্টমস, ব্যাংক, শিল্প এলাকার বিভিন্ন ফ্যাক্টরী, বেজাসহ প্রতিদিন কয়েক হাজার পুরুষ, মহিলা ও শিশু এ নদী পাড়ি দিয়ে তাদের কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। এছাড়া খুলনা, বাগেরহাট, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ নদী পাড়ি দিয়ে সড়ক পথে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক লোক যাতায়াত করেন। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এক একটি খেয়া ট্রলারে অন্তত ৭০/৮০ জন লোক অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে নদী পার হচ্ছেন।  এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে মোংলা নদী পারাপারে কম যাত্রী বহনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে অতি মুনাফা লোভী খেয়া ট্রলারের মাঝিরা এ নির্দেশনা মানছেন না।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial