বাগেরহাটে হেলে পড়া সেতুর নিচ দিয়ে পাড়াপাড়ের সময় নৌকা ডুবি
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা খালের হেলে পড়া ব্রিজটি নিচ দিয়ে পাড় হওয়ার সময় একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা (খেয়া) ডুবে গেছে। সোমবার সকালে এই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এসময় ডুবে যাওয়া নৌকায় শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থীসহ অর্ধ শতাধিক লোক ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য আহত হলেও, বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় আব্দুল ওয়াদুদ আকন, সেলিম হোসেন, সুলতান আহমেদসহ কয়েকজন জানান, সকালে শিক্ষার্থীরা নৌকা যোগে খাল পার হয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে লোক বেশি হওয়ায় নৌকাটি ডুবে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে এলাকাবাসী নেমে শিশু ও বৃদ্ধদের উদ্ধার করে। শিক্ষার্থীরা সাতরিয়ে ওপার ওঠে। তাদের সাথে থাকা বই ও খাতা ভিজে যায়। অনেকের মুঠোফোন ডুবে যায়।
শরণখোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আলম ফকির বলেন, প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থী ও জনসাধারণ এই সেতু পার হয়ে তাদের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করত। সেতুটি বন্ধ হওয়ায় নৌকাই একমাত্র ভরসা। নৌকায় পাড়াপাড় নিয়মিত হলে সকালের মত যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রাণহানীও হতে পারে। তাই অতিদ্রুত এই জায়গায় একটি বিকল্প সেতুর ব্যবস্থা করে জন ভোগান্তি কমানোর দাবি জানান তিনি।
তবে শরণখোলা থানা কমপ্লেক্স থেকে সামান্য দূরে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে কিচুই জানেন না থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, নৌকা ডুবির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যাই। এ নৌকা ডুবিতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ধরণের সমস্যা এড়াতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এক সপ্তাহের মধ্যে হেলে পড়া সেতুর স্থানে বিকল্প একটি সেতু তৈরি করে দেওয়া হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদ থেকে এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
গত রবিবার ব্রিজের নিচের দুটি লোহার পিলার ভেঙ্গে যাওয়ায় হেলে পড়ে সেতুটি। পরে উপজেলা প্রশাসন ওই সেতু দিয়ে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
