দিল্লি থেকে ফিরলেন ২৩ বাংলাদেশি ॥ কেউ করোনায় আক্রান্ত নন
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর স্বাস্থ্য ছাড়পত্র নিয়ে শনিবার বিকেলে দেশে ফিরেছেন ২৩ বাংলাদেশি নাগরিক। দেশে ফেরার পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তাদের বহনকারী ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট শনিবার বেলা ২টা ৫৬ মিনিটে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এয়ারলাইন্সের অনলাইন ফ্লাইট ইনফরমেশন আপডেট এ তথ্য নিশ্চিত করে। খবর ইউএনবির।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দুপুর ১১ টা ৫৮ মিনিটে (দিল্লির স্থানীয় সময়) ফ্লাইটটি বিমানবন্দর ত্যাগ করে। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান ও ডেপুটি হাইকমিশনার এটিএম রকিবুল হক ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের বিদায় জানান।
এই ২৩ জনের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। এছাড়া এক শিশুসহ একটি পরিবার রয়েছে। মুহাম্মদ ইমরান বলেন, বাংলাদেশিরা ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালে ওই ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছিল। বৃহস্পতিবার তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তাদের কেউই করোনাভাইরাস আক্রান্ত হননি।
২৩ জন সদস্যের ওই দলে থাকা এক শিক্ষার্থী জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে চীনের উহান থেকে তাদের সরিয়ে আনা হয়েছিল। অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিন আটকে থাকায় সবার জন্যই বেদনাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বেইজিংয়ের ভারতীয় দূতাবাস স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী চীনের প্রশংসা করে বলেন, আমাদের সুরক্ষিত রাখতে ও আমাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিশ্চিত করতে তাদের প্রচেষ্টা নিঃস্বার্থ ছিল। নিজেদের নাগরিকদের মতো বিদেশি নাগরিকদেরও তারা দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করেছে। আমরা সবসময় তাদের এই সহায়তা মনে রাখব। এছাড়া ভারতীয় কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন ফেরত আসা বাংলাদেশিরা।
