প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠী’র সমদেকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়

নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্নদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না ॥ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তালবাহানা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার সমেদকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে নির্বাচিতদের নিয়োগ দিতে নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ থাকার পরেও নিয়োগ নিয়ে নানান তালবাহানার করছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তারেকেশ^র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হঠাৎ করে বিদ্যালয়ের সভাপতি দীলিপ পাল পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। তিনি বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে সুমন বড়াল এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে মো. ইউসুফ আলী নামে দুই প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাই তাদের নিয়োগ দিতে নিয়োগ বোর্ড সুপারিশ করেছেন।

জানা গেছে, নিয়োগ বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত ওই দুই ব্যক্তির একজন হলেন চায়ের দোকানদার এবং অপরজন এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অভিযোগ উঠেছে দরিদ্র পরিবারের লোক বলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দীলিপ পালকে সন্তুষ্ট করতে না পারায় সভাপতি দীলিপ পাল ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়োগ প্রদান বন্ধ করে রেখেছেন। তবে এ ব্যাপারে জানার জন্য সভাপতি দিলীপ পালকে না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে কল দিলে একবার রিং হয়ে লাইন কেটে যায়। তারপর একাধিকবার ফোন দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে, দরিদ্র পরিবারের লোক বলে তাদের নিয়োগ না দেওয়ার কারণে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে উপজেলার বিভিন্ন মহলে। নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগ না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে ষ্ট্যাটাস দিয়েছেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু। গত ১৫ জানুয়ারি ‘নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন’ নামক ফেসবুক আইডিতে থেকে তিনি এ ষ্ট্যাটাস দেন। মুহুর্তেই ইউএনওর দেয়া পোষ্ট ভাইরাল হয়ে যায়। তার দেওয়া ওই পোষ্টে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২.২০ মিনিট পর্যন্ত ৮১টি কমেন্টস এবং ৩৭টি শেয়ার হয়। পাঠকদের স্বার্থে ইউএনও এর দেয়া ওই ফেসবুক পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

“অমানুষের মুখোশ যাক খুলে”

গত ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে সমুদয়কাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে জনৈক সুমন বড়াল, পিতা: সুখরঞ্জন বড়াল, গ্রাম: কুহুদাসকাঠী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে জনৈক মো. ইউসুফ আলীকে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের জন্য নিয়োগ বোর্ড কর্তৃক সুপারিশ করা হয়। নিয়োগ বোর্ডে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জনাব দিলীপ পাল ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব তারকেশ্বর সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হলেও আজ মাসাধিককাল গত হলেও তাদের নিয়োগ দেয়া হয়নি। বরং নিয়োগ না দেয়ার জন্যই স্কুল কমিটির সভাপতি জনাব দিলীপ পাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা অবৈধ, অনভিপ্রেত ও অন্যায়। নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্তদের একজন চায়ের দোকানদার এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

জনাব দিলীপ পাল স্বরূপকাঠী কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষক হিসেবে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন; কিন্তু তার এই আচরণে আমি শিক্ষকের কোন গন্ধ পাইনি। বরং পেয়েছি মনুষ্যত্বহীনতার গন্ধ। তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কী শিক্ষা দিয়েছেন তা সত্যি আমি প্রশ্ন করতে চাই। শিক্ষা বা শিক্ষকতার আলো তার দিলে প্রবেশ করতে পারেনি বলেই বোধ হয়। একমাত্র সন্তান আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করে আর তিনি দেশের দরিদ্র মানুষের রিজিক ছিনিয়ে নেয়ার যে কুৎসিত খেলা খেলেছেন তাকে আমি মানুষ হিসেবে কোন পর্যায়ে রাখবো সেটাই ভাবি এবং পরিতাপের বিষয় হলো যে, নিয়োগে সুপারিশকৃতদের স্বপ্ন হরণে তার বুক একটুও কাঁপেনি।

ছেলেটা যখন আমার সামনে এসে দাঁড়ায় এবং চোখের পানি ফেলে তখন আমার রক্ত টগবগ করে উঠে; কিন্তু অমানুষদের কোন পরিবর্তন হয় না। অমানুষরা যোগ্যতা দেখে না, দেখে জাত-বর্ণ-ধর্ম-দল। অমানুষরা সামান্য সুযোগ পেলেই তাদের গায়ে যে লজ্জার চামড়া নেই তা দেখিয়ে দেয়; যদি সুযোগটা বড় আকারে পেত তবে কি যে করত তা তো বুঝাই যায়”।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial