মঠবাড়িয়ায় পানির নিচে পাঁকা আমন ধান ॥ রবি শষ্যের ব্যাপক ক্ষতি
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৌষ মাসের অসময়ের বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে পাঁকা আমন ধান এবং রবি শষ্যের ক্ষেত। গত ৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে তছনছ হয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের সাজানো ফসলের ক্ষেত। সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ঋণের টাকা পরিশোধের চিন্তায় কৃষকরা দু’চোখে ঘোর অন্ধকার দেখছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ২০ হাজার ২ শত হেক্টর জমিতে আমন (উফসি এবং স্থানীয়) আবাদ হয়েছে। ৫০ ভাগ ধান এখন পর্যন্ত কৃষকরা ঘরে তুলেছে। বাকি ৫০ ভাগ পাঁকা ধান মাঠে আছে। এই ৫০ ভাগের কিছু ধান কেটে শুকাবার জন্য কৃষকরা মাঠে পাঁজা করে রেখে দিয়েছে। কাটা ধানের সাথে না কাটা পাঁকা ধান গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরেছে। এ বছর ৩ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমিতে আবাদকৃত রবি শষ্য অসময়ের বৃষ্টিতে প্রাথমিক মতে প্রায় ৮০ ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলার বড় শৌলা গ্রামের কৃষক শাহ আলম আকন (৫২) জানান, তার প্রায় দেড় একর জমির পাঁকা আমন ধান বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়ায় প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার ক্ষতি হবে।
নাগ্রাভাঙ্গা গ্রামের বর্গা চাষি মো. ফারুক হাওলাদার (৫৫) জানান, বৃষ্টিতে তার প্রায় ২ একর জমির পাঁকা ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়ায় পানিতে ভাসছে। ২টি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করা ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধের চিন্তায অন্ধকার দেখছি।
নাগ্রাভাঙ্গা গ্রামের বর্গা চাষি আ. হামিদ মোল¬া (৫৫) জানান, ৩৩ শতক জমিতে ৫ হাজার টাকার করল¬া ও ঢেড়সসহ বিভিন্ন বীজ কিনে চাষ করি। কিন্তু বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ক্ষেত পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, হঠাৎ বৃষ্টিতে মাঠে থাকা আমন ধানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। আর রবি শষ্যের যে ক্ষতি হয়েছে তা মৌসুমের যে সময় আছে তাতে কৃষকরা কাটিয়ে উঠতে পারবে।
