প্রধান সূচি

মোংলায় নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি ॥ বন্দরে অচলাবস্থা

নৌযান ও নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী এবং ডাকাতি বন্ধ, ভারতগামী নৌযান শ্রমিককে ল্যান্ডিং পাস প্রদান ও হয়রানী বন্ধ, নদীর নাব্যতা রক্ষা ও মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপনসহ ১১ দফা দাবীতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সারা দেশের ন্যায় দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলাতেও নৌযান শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এর ফলে রাত  থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে মোংলা বন্দর থেকে ভারত-বাংলাদেশে নৌ প্রটোকল রুটসহ সারা দেশের নৌপথে পণ্য পরিবহণের কাজ। নৌযান শ্রমিকদের এ কর্মবিরতিতে মোংলা বন্দরে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। দুপুর নাগাদ বন্দরে অবস্থানরত অধিকাংশ জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে নৌযান শ্রমিকদের এ কর্মবিরতরি ফলে বন্দর ব্যবহারকারীসহ শিপিং ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে শুরু করেছেন।

কর্মবিরতি শুরুর আগ থেকেই বন্দরে অবস্থানরত বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের সাথে যে সকল নৌযান অবস্থান করছিল সেগুলোতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত স্বল্প পরিসরে পণ্য খালাসের কাজ চলেছে। তবে কিছু কিছু জাহাজের সাথে কোন নৌযান অবস্থান না থাকায় সে সকল জাহাজের পণ্য ওঠা-নামার কাজ বন্ধ রয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন বলেন, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। তবে বন্দর জেটি ও কন্টেইনার ইয়ার্ডে চলছে অভ্যন্তীরন কার্যক্রম।

বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, পশুর চ্যানেল ও বহিঃনোঙ্গরে শনিবার বিকেলে ২৮টি বানিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে ।

শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে মোংলা বন্দর এলাকায় এখন প্রায় পাঁচ শতাধিক নৌযান অবস্থান করছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকল রুটে চলাচলকারী। এছাড়া জাহাজ থেকে পণ্য বোঝাই করে বেশ পরিমান নৌযানও এ বন্দর এলাকায় নোঙ্গর করে রয়েছে। এসব নৌযানের শ্রমিকরা এখন অলস সময় অতিবাহিত করছেন।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও শিপিং ব্যবসায়ী এইচ এম দুলাল জানান, কর্মবিরতির কবলে পড়ে প্রতিদিন জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিকদের কর্মবিরতির প্রেক্ষিতে বহিঃবিশ্বে এ বন্দর তথা দেশের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial