মঠবাড়িয়ার তুষখালী কলেজে হামলা ॥ প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলার তুষখালী কলেজে শুক্রবার রাতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় হামলাকারীরা কলেজের নৈশ প্রহরীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। আহত কলেজ নৈশ প্রহরী খায়রুল ইসলাম ফরাজী (২৯)কে রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এছাড়া ইমরান (২২) ও রিফাত(২৪) নামের দুই যুবক মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে, রাতের আঁধারে কলেজে হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবীতে বিক্ষুব্দ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শনিবার সকালে মঠবাড়িয়া-চরখালী সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছে। এ স সময় পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। দেখা দেয় তীব্র যানজট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পিরোজপুর থেকে ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও রড নিয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা তুষখালী কলেজে ঢুকে কলেজের সাইনবোর্ড, কলেজ মাঠে থাকা একটি বাস, একটি ট্রাক, একটি মোটর সাইকেল ও রাস্তার একটি মাহেন্দ্র গাড়ী, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর করে। এ সময় কলেজে দায়িত্বে থাকা নৈশ প্রহরী খাইরুল ইসলাম ফরাজীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত নৈশ প্রহরীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তুষখালী কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তুষখালী কলেজটি এবার এমপিওভুক্ত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়ামে পুলিশ সুপার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় অংশ নেয় মঠবাড়িয়া উপজেলা দল। এ খেলায় পরাজিত হয়ে ফেরার পথে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও রড নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা চালিয়ে কলেজের সাইনবোর্ড, সিসি ক্যামেরা, গাড়ি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ভাংচুর করে। এ সময় তারা কলেজের নৈশ প্রহরীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে
তুষখালী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজন কলেজে হামলা চালিয়েছে। এ হামলা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মো. মাসুদুজ্জামান জানান, তুষখালী কলেজে হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে শনিবার সকালে মিলন মেম্বর নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় এখনও থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, কলেজে হামলার ঘটনাটি অতি নিন্দনীয়। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, পিরোজপুরে অনুষ্ঠিত পুলিশ সুপার ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলার ৭টি উপজেলা অংশ নেয়। বুধবার অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল খেলায় মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রতিপক্ষ ছিল ভান্ডারিয়া উপজেলা দল। খেলায় মঠবাড়িয়া উপজেলা বিজয়ী হয়। তবে শুক্রবার ফাইনাল খেলায় পিরোজপুর সদর উপজেলা দলের কাছে ৩-২ গোলে পরাজিত হয় মঠবাড়িয়া উপজেলা দল। এ ফাইনাল খেলায় ভান্ডারিয়া উপজেলা দলের সমর্থকরা পিরোজপুর সদর উপজেলা দলকে সমর্থন দেয় এবং মাঠে বাদকদলসহ ভান্ডারিয়া উপজেলার কয়েকশত দর্শক উপস্থিত হন। আর এতে ক্ষুব্দ হয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত মঠবাড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত তুষখালী কলেজে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়।
