কচুয়ায় সক্রিয় হচ্ছে কিশোর গ্যাং
বাগেরহাটের কচুয়ায় দিনে দিনে সক্রিয় হয়ে উঠছে কিশোর অপরাধী চক্র কিশোর গ্যাং। কেউবা স্কুল ছাত্র, আবার কেউ অপরাধের কারনে স্কুল থেকে বিতারিত। এরা বিভিন্ন সময়ে স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের উত্যক্ত করে থাকে। এছাড়া কখনো (চাকু ছোড়া) গুপ্ত অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাদের কারনে অভিবাবক মহল সংকিত হয়ে উঠেছে। তাদের হিংস্র আচরনে স্কুল শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাক্তি নিজ নিরাপত্তা নিয়ে সংকিত হয়ে পড়েছে। এদিকে ওই বখাটেদের হাতে নারী অভিবাবক সহ বিভিন্নজন লাঞ্চিত হয়েছেন। শিশুর নিরাপত্তার ভয়ে থানা পুলিশকেও জানাতে সাহস পায়নি ভুক্তভোগীরা।
ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলা কথিত নেতারা এদের আশ্রয় দেয়ায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই চক্রটি। ফলে অনেক আতংকের মধ্যে রয়েছে স্কুল গামী মেয়েদের অভিবাবকেরা।
সম্প্রতি পুলিশ বখাটেদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করায় কিছুদিনের জন্য গা-ঢাকা দিলেও আবারো সক্রিয় হয়েছে এ চক্রটি। স্কুল-কলেজ শুরু ও শেষ হওয়ার সময় এরা দলবেধে কখনো অন্যের বা নিজের মোটরসাইকেল করে মেয়েদের পিছু নিয়ে উত্যক্ত করতে থাকে। আবার কখনো মেয়েদের ভয় দেখিয়ে তাদের ছলনার জালে আটকানোর চেষ্ঠা করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিবাবক বলেন,আমাদের কন্যা সন্তান নিয়ে আমরা সারাক্ষন চিন্তিত থাকি, কখন যেন কি হয়ে যায়।
আবার কেউ কেউ বলছেন, ওরা নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের লোক বলে দাবী করে বলে ভয়ে কিছু বলতে পারছিনা। আমাকে কিছু না বললেও আমার ছোট ছোট সন্তান আছে ওদের যদি কোন ক্ষতি করে ফেলে, তাহলে আর আমার কিছুই করার থাকবেনা। সকলে স্থানীয় এমপি ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সহযোগীতা কামনা করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী অভিবাবক বলেন, আমার ছেলেকে ওরা মারপিট করে, পরে আমি ওই চক্রের একজনকে জিজ্ঞাসা করায় আমাকেও স্কুলের সামনে মারপিট করে। আমার ছোট ছেলে ও মেয়ে আছে, ওরা যদি আমার ছেলে-মেয়েদের কোন ক্ষতি করে দেয় তাহলে আমি কি নিয়ে বাঁচবো এই ভয়ে থানায় কোন অভিযোগ করিনি।
এদেরকে এখনই নিয়ন্ত্রন করা না গেলে ভোলার রিফাত হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটার আশংকা করেছেন অভিজ্ঞ মহল।
সরকারী সিএস পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুনিয়া সুলতানা বলেন, অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে যুক্ত থাকায় ইতোমধ্যে আমরা কয়েকজনকে টিসি দিয়েছি। এরা বিদ্যালয়ের সুনাম নস্ট করছিল। তাছাড়া তাদের অভিবাবকদের সতর্ক করা হলেও তারা সংশোধন করাতো দুরের কথা উল্টো অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।
কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল বলেন, আমি অনেক আগে উপজেলা আইনশৃংখলা সভায় এদের বিষয়ে বলেছি। এরপর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। তখন দেখেছি পুলিশ কাউকে ধরে নিয়ে আসলে আবার কতিপয় নেতারা তদবির করে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে এ অভিযান চলতে দেখছিনা। এলাকার মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনশৃংখলা বাহিনী কঠোর ভুমিকা প্রয়োজন।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সফিকুর রহমান বলেন, কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবেনা। সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
