শিশুদের কারিগর হায়দার মাষ্টার
ইন্দুরকানীতে শিশুদের কারিগর হায়দার মাষ্টার। তার সারাদিনের কর্মের মূল ভাবনাই বিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ের শিশু। একটি অজপাড়াগায়ের জড়াজীর্ণ বিদ্যালয়কে সাজিয়ে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ করে উপজেলার সেরা বিদ্যাপিঠের স্থান করা যায় তার বাস্তব নিদর্শন শিক্ষক হায়দার আলী।
সরকারীভাবে বরাদ্ধকৃত টাকা, ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন ব্যক্তির অনুদানের টাকায় সে বিদ্যালয়টিকে এভাবে সাজিয়েছেন।
ইন্দুরকানী উপজেলায় ৬৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর শিক্ষা উপকরণসহ বিদ্যালয় উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে বিদ্যালয়কে শিশুদের বাগান হিসেবে গড়ে তোলা যায়। তাই মাষ্টার হায়দার আলী এই অর্থ বিদ্যালয় ও শিশুদের জন্য ব্যয় করে শিশুদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য যা যা দরকার সবই করেছেন।
উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কচা নদীর তীরবর্তী কালাইয়া গ্রামে ২২নং মধ্য কালাইয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। টিনসেট সেমিপাকা বিদ্যালয়টিতে ১৩২ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শিশু শ্রেনীসহ সব শ্রেনীগুলো রয়েছে সাজানো। বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করা হয়েছে শ্রেনীকক্ষের নাম। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার নামে করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্যভিত্তিক মুক্তিযোদ্ধা গ্যালারী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে করা হয়েছে বুক কর্নার। সেখানে নতুন প্রজন্মকে জানার জন্য রয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিশুদের জন্য লেখা নানা লেখকের বই।
এছাড়া জাতীয় চার নেতা, বীর শ্রেষ্ঠসহ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক ছবি ও চার্ট দেয়ালে প্রদর্শন করা হয়েছে। শিশুদের লেখা দেয়ালিকায় মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনকের অবদান ও তার কর্মজীবন ফুটে তুলেছে। শিশুদের জন্য একটি ফুলের বাগান ও সাজানো খেলার মাঠ রয়েছে। সব মিলিয়ে একটি পরিপাটি বিদ্যালয়। যা একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত করার।
বিদ্যালয়টি দেখতে প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীরা প্রায়ই এখানে আসেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হায়দার বেপারী জানান, একটি জড়াজীর্ণ বিদ্যালয়কে একজন শিক্ষকের যদি মন থাকে সরকার যে অর্থ প্রতিবছর বরাদ্দ দেয় সে অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়কে শিশুদের উপযোগী করে সাজানো যায়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পূরবী রাণী দাস জানান, সরকারী বরাদ্ধের টাকায় ওই বিদ্যালয়কে সাজানো হয়েছে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা থাকলে প্রত্যেকটা প্রাথমিক বিদ্যালয় এভাবে করা সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ বলেন, এ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শিশুদের শিক্ষার জন্য একটি আদর্শ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টি দেখে অন্যদের ও তাদের নিজস্ব উদ্যোগে নিজ বিদ্যালয়কে সরকারের নিয়ম মেনে সুন্দর করার চেষ্টা করলে প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে।
