প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

ইঞ্জিনিয়ার পরিমলের বদলি গুঞ্জন ॥ স্বস্তি নেমেছে গ্রাহকদের মধ্যে

গ্রাহকদের সাথে দুর্ব্যবহার, কারণে-অকারণে লোডশেডিংসহ নানা অনিয়মের মৌখিক অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবশেষে স্বরূপকাঠি পল্লী বিদ্যুতের পূর্বঞ্চাল শাখার কর্মস্থল থেকে বদলি হচ্ছেন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পরিমল চন্দ্র গাইন বলে।
মঙ্গলবার স্বরূপকাঠি উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক আইডি থেকে ‘বিদ্যুৎ সাপ্লাইয়ে পরিমল প্রভাব” পড়তে শুরু করেছে বলে জনগণ আশংকা প্রকাশ করছেন এবং ক্ষোভও জানাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি’। এমন এক ষ্ট্যাটাস দেওয়ার পর থেকে তার বদলি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
স্বরূপকাঠি কৌড়িখাড়া পল্লী বিদ্যুৎ শাখা জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বরূপকাঠি উপজেলা প্রশাসনের ওই ফেসবুক ষ্ট্যাটাস ও গ্রাহকদের নানান মৌখিক অভিযোগে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পরিমল চন্দ্র গাইন স্বরূপকাঠির কর্মস্থল থেকে বদলি হতে চলছেন। উপজেলার জোনাল অফিস সূত্রেও পরিমলের বদলির গুঞ্জন বিষয়টি একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, ইঞ্জিনিয়ার পরিমল চন্দ্র গাইনের বদলী হচ্ছে এমন গুঞ্জন শুরু হওয়ায় স্বস্তি নেমে এসেছে স্বরূপকাঠি পূর্বাঞ্চল শাখার কয়েক হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পরিমল চন্দ্র গাইন বলেন, বর্তমানে স্বরূপকাঠিতে বিদ্যুতের যেটুকু সমস্যা হচ্ছে তা লোড শেডিং নয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাট মাত্র। মুলত: ভান্ডারিয়া থেকে আগত মুল সংযোগ ও মাজে মাজে আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে মাঝে মধ্যে বিদ্যুতের একটু সমস্যা হয়েছে। এখানে তার কোন হাত নেই বলে ইঞ্জিনিয়ার পরিমল দাবী করেন।
জানা গেছে, উপজেলায় আবাসিক, বাণিজ্যিক, দাতব্য, শিল্প ও সড়কবাতি মিলিয়ে মোট ৫৪ হাজার ৬৩৯টি সংযোগ রয়েছে। যেখানে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ১২ মেঘাওয়াট। এর মধ্যে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের স্বরূপকাঠির সন্ধ্যা নদীর পূর্বপাড়ের ৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট সাড়ে ৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। চাহিদানুয়ায়ী সেই পূর্বপাড়ে বিদ্যুতের কোন ঘাটটি না থাকলেও গত রমজানের পড় থেকেই উপজেলার পূর্ব পাড়ে দিনে ৫ থেকে ৭ বার কারণে অকারণে বিদ্যুৎ থাকেনা। কখনো কখনো বিদ্যুৎ চলে গিয়ে দেড় থেকে দু’ঘন্টায়ও দেখা মেলেনা। লো-ভোল্টেজ, ঘন ঘন বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে বিপাকে পড়ে উপজেলার বিদ্যুৎ নির্ভর বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত। আর এসবের মুল কারণ হিসেবে উপজেলার পূর্ব পাড়ের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পরিমল চন্দ্র গাইনকে দায়ী করে আসছিল গ্রাহকরা।
উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত স্বরূপকাঠি কৌড়িখাড়া পল্লী বিদ্যুৎ শাখা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনালেন ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, স্বরূপকাঠিতে বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং নেই। এখানে ৪৭ হাজার ৯৪১ আবাসিক, ৫ হাজার ১৯০ বাণিজ্যিক, ৯৮২ দাতব্য, ৪৮১ শিল্প এবং ৪৫টি সড়ক মিলিয়ে মোট ৫৪ হাজার ৬৩৯টি সংযোগ রয়েছে। উপজেলায় মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ১২ মেঘাওয়াট। সেই চাহিদা অনুযায়ী এখানে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তাই এখানে বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং নেই বলে তিনি দাবী করেন। তবে যেটুকু হচ্ছে তা লাইনের ত্রুটির কারণে হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের সাথে নানা দুর্ব্যবহার ও ভিবিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুটির কয়েকটি বিষয়টি নিয়ে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পরিমলের ব্যাপারে এলাকাবাসীর মৌখিক অভিযোগ শোনা এবং স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র ফেসবুক ষ্ট্যাটাস দেখার পর তার (ইঞ্জিনিয়ার পরিমল) ব্যাপারে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial