স্বরূপকাঠিতে সন্ধ্যা নদীর ভাঙন
শান্তিহার কুনিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীনের অপেক্ষায়
স্বরূপকাঠি ভয়াল সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শান্তিহার কুনিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। ভবনের একদিকে পিলারের নিচ থেকে ভুমি সন্ধ্যা গহ্বরে চলে যাওয়ায় পিলারগুলো শূন্যে দাড়িয়ে আছে। ভবনের এক রুমের ফ্লোর দেবে গেছে। ফাটল দেখা দিয়েছে ওই ফ্লোরসহ ভবনের দেওয়ালে বিভিন্ন স্থানে। বিদ্যালয়টির ৬২ শতাংশ জমির মধ্য থেকে কেবলমাত্র ভবনটি অবশিষ্ট ছিল তারও একরুম শূন্যে দাড়িয়ে আছে। এ অবস্থার মধ্যে একটি কক্ষে সাময়ীক পরীক্ষা নিচ্ছিলেন গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ অবস্থা দেখা যায়।
বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে ভবনের এক দিকের তিনটি পিলাল শূন্যে দাড়িয়ে আছে। এক কক্ষের ফ্লোর ফাটে দেবে গেছে। ভবনের দেওয়ালে অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। নদীর স্রোতের যা গতি তাতে যে কোনো সময় বিদ্যালয় ভবনটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার অশংকা করা হচ্ছে। ঘটতে পারে প্রানহানীসহ মারাত্মক দুর্ঘটনা। জীবনের ঝুকি নিয়ে ওই ভবনের একটি কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। গত কয়েক বছরে নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা দেখে এ বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেছে অনেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মাত্র ২৪ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। শিক্ষক রয়েছেন চারজন।
শান্তিহার কুনিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান এ বিদ্যালয়টি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৮ সালে সরকার একটি পাকা ভবন নির্মান করে দেন। তিনি বলেন এক সময় বিদ্যালয়টিতে শতাধিক শিক্ষার্থী লেখা পড়া করলেও নদী ভাংগনের কারনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশীরভাগ অন্যত্র চলে গেছেন। সে কারনে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী আছে মাত্র ২৪ জন। ওই বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রায় ৮২ ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংকট দেখা দিয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) মো. জাহিদ ফারুক স্বরূপকাঠির সন্ধ্যা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বিদ্যালয়টি রক্ষায় জরুরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুম আহমেদ রানা জানান, মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশের পর পানি উন্নয়ন এলাকা পরিদর্শন কওে ম্যাপ করে নেন। এরপর অনেক দিন অতিবাহিত হলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না দেখে প্রকৌশলী সাহেবের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান প্লান করে মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ হবে। কিন্তু অনেক দিন গত হল কোন কাজ হচ্ছে না।
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদ আহম্মেদের ০১৭১৮৩১৫০১০ নম্বর মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। দফতরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহ আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ডিজাইন করে প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে প্রাক্কলন তৈরি করে টেন্ডার করা হবে।
