ইন্দুকানীতে ছাত্রলীগের দু-গ্রুপের দলীয় কার্যালয় দখল নিয়ে উত্তেজনা
ইন্দুরকানীতে ছাত্রলীগের দু-গ্রুপের দলীয় কার্যালয় দখল নিয়ে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয় থেকে সরিয়ে দিলে নুতন কমিটির নেতৃবৃন্দ দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয় ।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ইন্দুরকানী উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান ছগির ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইশ্রাফিল খান নেওয়াজের নেতৃত্বে নব গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের সমর্থকদের নিয়ে মোটর সাইকেল বহর নিয়ে উপজেলা সদরে দলীয় কার্য়ালয় আসার সময় থানা সড়কের মোড় এলাকায় পৌছলে পদবঞ্চিত উপজেলা ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছে বলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে ইন্দুরকানী থানার ওসি মোঃ হাবীবর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্য়ালয় অবস্থানরত ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত বিদ্রহী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সরিয়ে দেয় তখন নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাঈদুর রহমানকে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা দলীয় কার্যালয় কিছু সময় অবস্থান করে পুলিশ প্রোটেকশনে আবার চলে যায়।
৩২ বছর বয়সী যুবক আতিকুর রহমান ছগিরকে ইন্দুরকানী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি করায় এক সপ্তাহ ধরে দলের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে নব গঠিত ছাত্রলীগের কমিটিকে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেয়ার জন্য পদ বঞ্চিত ও বিদ্রোহী উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা সাবেক সভাপতি শাহীন হাওলাদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম লিটন, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি শাওন হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নেওয়াজসহ নেতকর্মীরা উপজেলা সদরের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় অবস্থান করেন। এতে সকাল থেকে ছাত্রলীগের দু গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম লিটন জানান, গত ১০ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সভপতি মো. জাহিদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক অনিরুজ্জামান অনিক স্মাক্ষরিত ইন্দুরকানী উপজেলা ছাত্রলীগের ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে গঠনতন্ত্র বিরোধী ৩২ বছর বয়সী আতিকুর রহমান ছগিরকে সভাপতিসহ ত্যাগী নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি করায় আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। এসময় তিনি ছাত্রলীগের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের নিয়ে পুনরায় কমিটি করার দাবী জানান।
এদিকে নব-গঠিত ইন্দুরকানী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান ছগির জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পরামর্শে জেলা ছাত্রলীগ যে কমিটি দিয়েছে তা প্রতিরোধ করার কোন সুয়োগ নেই। আমরা দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে আইনশৃংখলা বহিনীর সহায়তায় দলীয় কার্যালয় অবস্থানের পর আবার নেতা কর্মীদের নিয়ে চলে এসেছি। কারো সাথে কোন বাধার সৃষ্টি হয়নি।
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের নুতন কমিটিকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই গ্রুপের মধ্যে দলীয় কার্যালয় অবস্থানরত পদবঞ্চিত গ্রুপকে সরিয়ে দিলে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ দলীয় কার্যালয় প্রবেশ করে। কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি।
