প্রধান সূচি

লিটনের বিলাশ বহুল জীবন যাপন ॥ বেড়িয়ে আসছে অজানা কাহিনী

পাইকগাছার এক সময়কার সাদামাঠা জীবন যাপনকারী লিটন দাশ এখন পপুলার হেল্থ এন্ড এডুকেশন সঞ্চয় ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি (পিসিএল) এর চেয়ারম্যান। কোন রকম ৮ ক্লাসে পা রেখেই ইতি ঘটে তার শিক্ষা জীবনের। পিতা সুধীর দাস কৃষিকাজ আর ছোটখাট পানের ব্যবসা করে কোন রকম সংসার চালাতেন। এমতাবস্থায় ছেলে লিটন সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করতে বিভিন্ন সমিতিতে দৌঁড়ঝাপ করতে থাকেন। এক পর্যায় লিটন গ্রাহক সংগ্রহের কাজ নিয়ে যোগ দেয় ‘এনআইসিএল’ নামের একটি সমবায় সমিতির অধীনে। কিছুদিন কাজ করার পর কর্মক্ষেত্রের সহকর্মী নাজমার সাথে পরিচয়ের সূত্রধরে ঘনিষ্ঠতা লাভ করে। পরে তাদের চলাফেরাই অসংলগ্নতার কারণে কর্তৃপক্ষ তাদের উভয়কে বাদ দিয়ে দেয়। পরে তারা র‌্যাক সমিতির অধীনে কিছুদিন কাজ করার পর আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বের কারণে সেখান থেকেও কর্তৃপক্ষ ছাটাই করে তাদের। এরপর রীচ নামের একটি মাল্টি লেভেল কোম্পানীতে কাজ শুরু করে লিটন-নাজমা। এমতাবস্থায় সেখানকার গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করলে জনৈক পোনা ব্যবসায়ী ইকবাল ও এক মহিলা শ্রমিক তাদের জমাকৃত টাকা আদায়ের জন্য কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়িতে বেশ কয়েক বছর আগে অভিযোগ করেন। সেখানে তাদের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয় তারা।

উপরে উল্লেখিত কাহিনী লিটনের জীবনের প্রথম অধ্যায় বলা চলে। এরপরের অধ্যায় হচ্ছে পিসিএল। যেখানকার বর্তমান চেয়ারম্যান লিটন দাশ। পড়া-লেখার দৌঁড় ৮ম শ্রেণী। তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সারাক্ষণ ‘স্যার’সম্মোধন করে তাকে।

জানা গেছে, পপুলার হেল্থ এন্ড এডুকেশন সঞ্চয় ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড মূলত: পিসিএল নামে চলছে। জনৈক প্রদীপ গাঙ্গুলীসহ ২৫ জন সদস্যকে নিয়েই সরকারীভাবে নিবন্ধন পায় পপুলার হেল্থ এডুকেশন সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের সমবায় সমিতিটি। যার রেজিষ্ট্রেশন নং ৯৩। যা পরবর্তীতে ২৫ হাজার টাকায় ক্রয় করে লিটন। এমন ক্রয় বিক্রয়ের নিয়ম না থাকলেও উপ-আইন লঙ্ঘন করে তৎকালীন সময়ে উপজেলা সমবায় অফিসকে ম্যানেজ করেই তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সুত্র আরো জানায় সমিতির উপ-আইনের নীতিমালা অনুসারে মুল নামের পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের বিধান না থাকলেও পিসিএল নাম ব্যবহার করছে লিটন-নাজমা পরিষদ। অভিযোগ রয়েছে, লিটন সমিতির পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও সেখানে চেয়ারম্যান হিসেবে সিল স্বাক্ষর ব্যবহার করছেন। তবে সমবায় অফিসের খাতাপত্রে সভাপতি হিসেবেই নিজেকে উপস্থাপন করেন।

অভিযোগ উঠেছে, সমিতির গ্রাহকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করার নিয়ম ও তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বি করার নিয়ম ব্যাতিরেকে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে বা ব্যক্তিগতভাবে বিনিয়োগ করার নিয়ম না থাকলেও পিসিএল নামে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ব্যক্তিগতভাবে একাধিক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি নামে জমি ক্রয়সহ বিলাসিতা জীবন যাপনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন লিটন। প্রশ্ন উঠেছে, পিসিএল নামের এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কোথা থেকে এলো। এমন সব নানা অভিযোগ নিয়ে জনমনে জল্পনা-কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial