বাগেরহাটে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে দুম্বার খামার
বাগেরহাটের ফকিরহাটে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে দুম্বার খামার। ফুয়াদ হাসান নামে এক যুবক দুম্বার এই খামার গড়ে তুলেছেন। ভারতের রাজস্থান থেকে তিনি এনেছেন পাঁচটি দুম্বা। আর এর মধ্যে তার খামারে জন্ম নিয়েছে দুটি দুম্বা শাবক। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মতে, এদেশের আওহাওয়া দুম্বা পালনের অনুকূল হওয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
সরেজমিনে গিয়ে দুম্বা খামারের মালিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার আট্টাকি গ্রামের ফুয়াদ হাসান ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে মার্কেটিং এর ওপর বিবিএ করেছেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি পশুপাখি পুষতে ভালোবাসতেন। ওই ভালোবাসা থেকেই দুম্বার খামার গড়ে তোলেন ফুয়াদ। বাড়ির পাশে প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর তিনি গড়ে তুলেছেন এই খামার। ভারতের রাজস্থান থেকে টার্কি (তুরস্ক) জাতের পাঁচটি দুম্বা এনে শুরু করেন খামারটি। একটি পুরুষ এবং চারটি মাদি দুম্বা নিয়ে চার মাস আগে দুম্বার খামার শুরু হয়েছে।
উদ্যোক্তা ফুয়াদ হাসান বলেন, ‘আমি চিকিৎসার জন্য ভারতের রাজস্থান গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দুম্বা দেখে এগুলো পোষার শখ হয়। সেখান থেকে পাঁচটি দুম্বা কিনে কাস্টমসের শুল্ক পরিশোধ করে এলাকায় এনে এই ফার্ম গড়ে তুলি। এলাকার অনেক যুবক এখন দুম্বার খামার গড়ে তোলার জন্য আমার কাছে এসে পরামর্শ নিচ্ছে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে খামার তেরি করে স্বাবলম্বী হতে চাই।’
তিনি আরও জানান, ‘ভারত থেকে পাঁচটি দুম্বা আনতে আমার সর্বমোট খরচ হয়েছে সাড়ে সাত লাখ টাকা। ইতোমধ্যে দুটি দুম্বার বাচ্চা হয়েছে। অনেকে আমার কাছে দুম্বা কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রতিটি আড়াই লাখ টাকা করে দাম বলছেন। কিন্তু এখনও আমি বিক্রির চিন্তা করছি না। দুম্বার মাংস এবং দুধের চাহিদা থাকায় দুম্বার ফার্ম লাভজনক হবে বলে আমি মনে করি। আমি সরকারের কাছে এই খাতের উদ্যোক্তাদের সরকারি ঋণ সহায়তাসহ কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানাই।
স্থানীয় যুবক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বাগেরহাট অঞ্চলে দুম্বা চাষ এই প্রথম। আমিসহ এলাকার অনেকেই এখন দুম্বা খামার গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী হয়েছি। এজন্য প্রয়োজন সরকারি সহায়তা। সরকারিভাবে ব্যাংক ঋণ ও কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা করলে বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা খামার গড়ে উঠবে। এতে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা দূর হবে অন্যদিকে মাংস ও আমিষের চাহিদা পূরণ হবে বলেও আমার ধারণা।’
ফকিরহাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পুস্পেন কুমার সিকদার তার দফতর থেকে সর ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বলেন, ‘ফকিরহাট উপজেলার বেকার যুবক ফুয়াদ হাসান দুম্বার খামার গড়ে তুলেছেন। ইতোমধ্যে তিনি সফলতাও পাচ্ছেন। দুম্বা ছাগল ও ভেড়ার মতো লালন-পালন করা যায়। জন্ম নেওয়ার পর তিন থেকে চার বছরে দুম্বা পূর্ণবয়স্ক হয়ে যায়। প্রাপ্ত বয়ষ্ক একটি দুম্বার ওজন ১০০ থেকে ১২০ কেজি পর্যন্ত হয়। বয়স্ক একটি দুম্বা আড়াই থেকে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়।’ তিনি দেশের বেকার সমস্যার সমাধান ও আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য দুম্বা লালন-পালনে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. মো. লুৎফর রহমান খামারটি পরিদর্শন করে বলেন, ‘দুম্বা একটি সহনশীল প্রাণী। যেহেতু ফকিরহাটের এই পরিবেশে দুম্বা পালনে কোনও সমস্যা হচ্ছে না তাই এই খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দুম্বা ও ভেড়া কাছাকাছি প্রাণী। দুম্বার খামার করতে কোনও ঝুঁকি নেই। ছাগলের মতো দুম্বারও দ্রুত বংশ বৃদ্ধি হয়। দুম্বা এক সঙ্গে দুই থেকে পাঁচটি বাচ্চা দিয়ে থাকে। ছাগল পালন করা যত সহজ, তেমনি দুম্বা পালন করাও সহজ। দুম্বার মাংসে চর্বি কম থাকে এবং প্রোটিন ও ভিটামিন সি‘র পরিমাণ বেশি থাকে। তাই দুম্বার মাংস খেলে হৃদরোগ ঝুঁকির আশঙ্কা অনেক কম থাকে। তাই এই মাংসের চাহিদা এদেশে বেশি।’
