প্রধান সূচি

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

ভূয়া সাংবাদিকদের চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার কতিপয় ব্যক্তির বেপরোয়া চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। নিজস্ব বাইকের সামনে পেছনে নাম নাজানা পত্রিকা, অন-লাইনের ষ্টীকার বা প্রেস লাগিয়ে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরেই এরা ছুটে চলে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ঘটনা যায়ই ঘটুক না কেন টাকা না দিলে সংবাদ চেপে দেওয়ার হুমকী। হামলা-মামলা, বিয়ে-তালাক, কেনা কাটায় সব জায়গাতে তাদের টাকা চাই।  সম্প্রতি খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কপিলমুনি-কানাইদিয়া খেয়াঘাট ইজারাদারদের কাছ থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

তালা ও পাইকগাছা এলাকার সাংবাদিক পরিচয় নজরুল, সেলিম, টিপু, মোকলেছ  এ চাদবাজীতে জড়িত বলে জানান ইজারাদার শুকুর আলী। এ সময় তারা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখায়। তিনি আরও জানান,  জনৈক নজরুল, সেলিম, টিপু মোখলেছ নামে  কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার নজরুলসহ তারা এসে আমাকে ভয়ভীতি দেখায়, এক পর্যায় ঝুটঝামেলা করবে না বলে আমার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এরপর আবার আসবে বলে জানায় তারা। তিনি বলেন, আমি মুর্খ মানুষ তাই ঝামেলায় যেতে চাইনি বলে টাকা দিয়েছি।

সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবীর ঘটনায় কপিলমুনি ও তালার সাংবাদিকদের মাঝে এক বির্বতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

খোজ নিয়ে জানাগেছে, কথিত সাংবাদিকরা  কাকডাকা ভোর থেকেই প্রেস লেখা বাইক নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাজির হয়ে যান। কে কোথায় দোকান নির্মান করছে, কে বাড়ী তৈরী করছে, কে রাস্তায় বালুর গাড়ী ঢুকালো, কে হাট-ঘাটের ইজারা নিয়েছে, কোন চেয়ারম্যান প্রকল্পের টাকা উঠাচ্ছে ইত্যাদি চাঁদাবাজীতে দিনভর ব্যাস্ত থাকায় পত্রিকায় লেখারও সময় পান না তারা। তাদের চাঁদাবাজীতে একদিকে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ অপরদিকে স্থানীয় প্রকৃত সাংবাদিকরা বিব্রতকর পরিস্থিতির স্বীকার হচ্ছে।

এ ব্যাপরে তালার সিনিয়র সাংবাদিক এস এম নজরুল ইসলাম জানান, আমরা  দীর্ঘ দিন পত্রিকার জগতে রয়েছি, জনস্বার্থেই সংবাদ পরিবেশন করে আসছি। আজ কিছু অসাধু ব্যক্তি অখ্যাত একটি পত্রিকা বা নিউজ পোর্টালের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে মোটর সাইকেলে প্রেস লাগিয়ে চাদাবাজী করছে। এদেরকে প্রত্যাখানসহ প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার আহব্বান জানান তিনি।

তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মীর জাকির হোসেন জানান, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে আমার সহযোগীতা থাকবে। বিষয়টি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial