কলা গাছের তৈরি বেদিতে চলে শ্রদ্ধা নিবেদন
চিতলমারীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার
মহান ২১শে ফেব্রুয়ারী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের জন্য বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। এসব প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের দিবসটি পালনে চরম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের ৬৭ বছর পার হলেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে না আসায় দ্রুত এসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহান ২১শে ফেব্রুয়ারী পালনের জন্য উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। এলাকায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজসহ দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নেই। ফলে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারীতে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। বিকল্প পন্থা হিসেবে অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কলাগাছ অথবা মাটির তৈরি বেদি নির্মাণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছে। এছাড়া অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার না থাকার ফলে দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে পারছে না।
উপজেলার ৫৮নং দড়িউমাজুড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অপূর্ব কুমার মৃধা জানান, প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ বছর আগেকার স্থাপিত তাদের বিদ্যালয়ে এখনো পর্যন্ত কোন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। ফলে ২১শে ফেব্রুয়ারীতে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাদের চরম বিপাকে পড়তে হয়।
হিজলা আলিম মাদ্রসার অধ্যক্ষ মো. শওকত আলী জানান, মাদ্রাসাটি ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও অধ্যবধি কোন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এছাড়া উপজেলার শৈলাদাহ বাকপুর কারামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান জানান, তার প্রতিষ্ঠানে কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে প্রতিবছর মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।
১০৯নং দক্ষিণ পিঁপড়ারডাঙ্গা কীর্ত্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পায়েল মন্ডল, অর্ঘ রায়, সবুজ মজুমদারসহ অনেকে জানায়, তাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় তারা তারা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারেনা। তাদের দাবী বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয়া হোক।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকবর হোসেন জানান, এলাকায় মোট ১১১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো কোন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ জানান, এলাকার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোতে শহীদ মিনার নেই। ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা প্রয়োজন। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ টিআর ও এমপি মহাদয়ের বিশেষ বরাদ্ধ থেকে পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।
