প্রধান সূচি

শরণখোলায় দু’শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক

বাগেরহাটের শরণখোলায় ৩৫নং রাজাপুর ইয়াছিন মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে দু’শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক আছে নামে মাত্র একজন। যার ফলে বিদ্যালয়টির পড়া লেখা দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রাথমিক শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬টি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের মাঝে মধ্যে দু’একটি ক্লাস হলেও অধিকাংশ সময়ই কোন ক্লাস হয় না।

সুন্দরবনের কোলঘেষে ১৯৭২ সালে ভোলা নদীর পার্শ্বে ওই স্কুলটি স্থাপিত হলেও বন সংলগ্ন এলাকার পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের এখন বিদ্যালয়টি কোন উপকারে আসছে না। অভিভাবকরা তাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করার জন্য প্রতিদিন স্কুলে পাঠালেও অধিকাংশ সময় ক্লাস না করেই বাড়ী ফিরতে হচ্ছে তাদের। নানা সমস্যার পাশাপাশি স্কুলটিতে নেই কোন শৃঙ্খলা। শিক্ষার্থীদের নেই বিদ্যালয়ের জন্য আলাদা কোন পোষাক। এক সময় স্কুলটির সুনাম থাকলেও চরম শিক্ষক সংকটের কারনে দিন দিন ঐতিহ্য হারাচ্ছে ওই বিদ্যাপিঠটি। উপজেলা সদর থেকে একটু দুর্ঘম এলাকায় স্কুলটির অবস্থান হওয়ায় উপজেলা শিক্ষা দপ্তর কর্তৃপক্ষের কোন নজরধারীও নেই। এছাড়া অধিকাংশ শিক্ষকরা সদরমুখী হওয়ায় ওই স্কুলে যোগদান করতে আগ্রহী নন কেউ। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য উপজেলা শিক্ষা দপ্তরকে বার বার অনুরোধ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির ৬টি শ্রেণিতে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশরই অভিভাবকদের পেশা সুন্দরবনের কাঠকাটা ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা। তাদের পক্ষে ছেলেমেয়েদের নামীদামী বিদ্যাপিঠে পড়ালেখা শেখানো অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয় ওই স্কুলটিতে শিশুদের ভর্তি করলেও ফলাফল শুন্য। মান সম্মত ভবন, ক্লাশরুম, উপবৃত্তি, টিফিন ব্যবস্থাসহ সরকারি নানা সুযোগ সুবিধা থাকলেও কেবলমাত্র চরম সংকট রয়েছে শিক্ষকের।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে সরকারি নানা উদ্যোগের সুফল ভোগ করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, তার একার পক্ষে সকল শ্রেণির দু’শতাধিক শিক্ষার্থী ম্যানেজ করে পাঠদান করা অসম্ভব। এছাড়া শিক্ষা অফিসের মাসিক সভাসহ প্রশাসনিক কর্মকান্ডের জন্য সপ্তাহে ৩/৪ দিন ব্যস্ত থাকতে হয়। যার ফলে ওই দিনগুলিতে বিদ্যালয়টি শিক্ষক শুন্য হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, স্কুলের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা দপ্তর কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে সংশ্লিষ্টরা কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় কোমলমতি শিশুদের পড়ালেখা গত দু’বছর যাবত এক প্রকার বন্ধ আছে। এছাড়া মাঝে মধ্যে দু’একজন শিক্ষক বিদ্যালয়টি যোগদান করলেও কিছু দিন পর শিক্ষা অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তাদের পছন্দের স্থানে বদলী হয়ে যায়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনে শুনেও নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial