স্বরূপকাঠি আওয়ামী লীগে উপজেলা নির্বাচনী হাওয়া
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ শেষ না হতেই স্বরূপকাঠিতে ক্ষমতাসীন দলের লোকদের মধ্যে বইছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া। নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে লবিং চালাচ্ছেন দলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম মুইদুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ এস এম ফুয়াদসহ দলের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে বেশ জোরেসোরে। কর্মী সমর্থকরা নিজ নিজ পছন্দের নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে ইতোমধ্যে দাবি উত্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক যে কোন আলাপ-আলোচনায় সর্মথকদের মুখে উঠে আসছে পছন্দের নেতাদের নাম ও তাদের বিগত সময়ের দলের জন্য ত্যাগ-তীতিক্ষার কথা।
সম্ভাব্য প্রার্থীরাও লবিং করতে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন জেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত। তৃণমুল জরিপে দলের সর্বোচ্চ পছন্দের তালিকায় সম্ভাব্যে ব্যক্তিরা শীর্ষে থাকার জন্য সর্বদা যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন কর্মীদের সাথে। আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, যারা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ব থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচেছন।
তবে নির্বাচনী হাওয়ায় নেই বিএনপি নেতা-কর্মীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশেষ অভিযান সহ পুলিশের বিভিন্ন দায়ের করা মামলার জামিন নিতে দিনের পর দিন তারা ছুটে চলছেন আদালত প্রাঙ্গনে। তারপরও তারা উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রের দিকে।
মোট ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত স্বরূপকাঠি উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক যাদের নাম আলোচনায় এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস. এম. ফুয়াদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস. এম. মুইদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেন, পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট জাকারিয়া খান স্বপন, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও পুজা পরিষদের আহবায়ক শশাঙ্ক রঞ্জন সমদ্দার, আলহাজ্ব আব্দুল হক।
নির্বাচন করার বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস. এম. মুইদুল ইসলাম বলেন, তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন এবং দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে তার।
দলের সম্ভাব্য প্রার্থী এস. এম. মুইদুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে ইউপি নির্বাচন সহ উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভের ঐতিহ্য রয়েছে তার। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য অপর হেভিওয়েট প্রার্থী এস. এম. ফুয়াদ দলের একজন ত্যাগি নেতা হলেও কোনকালেও তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে অংশ নেননি। তাই হঠাৎ করে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪র্থ উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন করার তার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সে সময়ে রাজনীতির পরিবেশ তেমন ভাল ছিলনা। তাই হয়ে উঠেনি। এখন উপজেলা আওয়ামী লীগে সুষ্ঠ ধারার রাজনীতি পরিবেশ দৃশ্যমান হওয়ায় এবার দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। দল যদি তার অতীত ইতিহাস মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দেন তাহলে তিনি প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন।
এছাড়াও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর পাশাপাশি পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও একাধিক প্রার্থীদের নাম শোনা যাচ্ছে। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য যাদের নাম শোনা যাচেছ তারা হলেন, সহকারী অধ্যাপক মো. শরীফ আহমেদ, এনামুল হক বাদশা, মো. সালাম রেজা, জি. এম. ফারুক। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুব মহিলালীগের আহবায়ক নার্গিস জাহান, সাবেক ইউপি সদস্য লাভলি খন্দকার সহ দু‘তিন জনের নাম শোনা যাচ্ছে।
