প্রধান সূচি

নতুন মন্ত্রীসভায় থাকছে নতুন চমক

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা তৃতীয় এবং চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ১০ জানুয়ারির আগেই নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সংদস্যরা আজ বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন। ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ২৯৮ আসনে নির্বাচিতদের গেজেট। এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেয়েছে ২৮৮ আসন। আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছে ২৫৯টি। জাতীয় সংসদে নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। এরপর আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের বৈঠক বসবে, যেখানে শেখ হাসিনাকে দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করবেন সাংসদরা। পরে সংসদীয় দলের নেতা শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। ওইদিনই শপথ নেবেন নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর আগে মন্ত্রিসভার তালিকা রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিভিন্ন সূত্রে জানান গেছে, আগামী ৬ জানুয়ারী নতুন মন্ত্রীসভা গঠন হতে পারে। আর নতুন এ মন্ত্রীসভায় থাকছে নতুন চমক। পুরোনোদের অনেকে বাদ পড়বেন মন্ত্রীসভা থেকে। যোগ হবেন নতুন সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে অনেকে। পিরোজপুর-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক, টকশো ব্যক্তিত্ব এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী শ. ম. রেজাউল করিম পূর্ন মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার শপথ নেয়ার পরপরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে তার পছন্দের ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন, তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা। যদিও মন্ত্রিসভা গঠনের একক এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে কে কে বাদ যেতে পারেন, কারা থাকছেন, বা নতুন কারা আসছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে কৌতূহল সবার।
আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারো মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন থাকছে। সেই সাথে থাকছে নতুন কিছু চমক।

বিগত ৫ বছর দায়িত্ব পালনে যাদের পারফরমেন্স খুব একটা সন্তোষজনক নয়। তাদের কেউ কেউ মন্ত্রীসভা থেকে বাদ যেতে পারেন। এছাড়া বয়স ও অসুস্থতা কারণেও অনেক বাদ পড়বেন নতুন মন্ত্রীসভা থেকে।
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন নতুন কিছু মুখ। এর আগে একাধিকবার সাংসদ হয়েছেন, স্বচ্ছ ইমেজ ও কাজে দক্ষতা রয়েছে এমন কাউকে কাউকে দেখা যেতে পারে এবারের মন্ত্রিসভায়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে ব্যতিক্রমও থাকবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, নবগঠিত মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার একক এখতিয়ার দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার। তিনি একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, বিশ^ব্যাপী সমাদৃত প্রধানমন্ত্রী। তার প্রতিটি কাজেই চমক থাকে। নিশ্চয়ই এবারো চমক থাকবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় কাকে সঙ্গে নিলে ভালো হবে সেটি তিনি ভালো করেই জানেন। সেই হিসেবেই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। তবে নতুনরাও মন্ত্রিসভায় প্রাধান্য পেতে পারেন বলে জানান তিনি।

বিভিন্নসূত্রে জানা গেছে, যেসব মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, সেসব মন্ত্রণালয় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা তেমন একটা নেই। নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা ছোট না করার মধ্য দিয়েই তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওই সরকারে টেকনোক্রেট ৪ মন্ত্রী ছাড়া প্রত্যেকেই স্ব স্ব পদে বহাল ছিলেন। কারণ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকার কথা একাধিকবার উল্লেখ করেছেন স্বয়ং সরকারপ্রধান। সে ক্ষেত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসছে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কেউ বলছেন, বরাবরের মতো নতুন-পুরনো মিলিয়েই এবারো মন্ত্রিসভা গঠন হবে। পুরনোদের মধ্যে বর্তমান যারা আছেন তাদের মধ্যে বহাল থাকতে পারেন- আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওবায়দুল কাদের, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আসাদুজ্জামান নূর, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, নারায়ণ চন্দ্র চন্দু, আ হ ম মুস্তফা কামাল, মোস্তাফিজুর রহমান, শাহরিয়ার আলম, জুনাইদ, আহমেদ পলক, বীরেন শিকদার, এম এ মান্নান ও বীর বাহাদুর উসৈ শিং।

নতুন মুখ হিসেবে দেখা যেতে পারে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবের হোসেন চৌধুরী, মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, শ ম রেজাউল করিম, ড. হাছান মাহমুদ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, শেখ সারহান নাসের তন্ময়, আবদুস সালাম মুর্সেদী, নাজমুল হাসান পাপন, ড. এ কে মোমেন, নাইমূর রহমান দূর্জয়সহ আরো কয়েকজনকে। এছাড়া বরাবরের মতো এবারো তৃণমূল থেকে নির্বাচিত সাংসদদের মধ্য থেকেও নতুন কাউকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে। অপরদিকে টেকনোক্রেট কোটায় জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সৈয়দ আবুল হোসেন, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, মোস্তাফা জব্বার, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, তারানা হালিম প্রমুখের নাম শোনা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে যেভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল, মন্ত্রিসভা গঠনেও নির্বাচিত সাংসদদের মধ্য থেকে সব শ্রেণি-পেশার গুরুত্ব দেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়াও আইনজীবী, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, কৃষিবিদ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, চিকিৎসক সব মিলিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial