প্রধান সূচি

পিরোজপুর-৩ আসন

ডা. রস্তুম ফরাজীকে মহাজোটের প্রার্থীতায় নারাজ মঠবাড়িয়া আ’লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে যদি ডা. রস্তুম আলী ফরাজীকে মনোনয়ন দেয়া হলে তা মানতে নারাজ মঠবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ। তাদের দাবী প্রার্থী দিতে হবে আওয়ামী লীগ থেকে। আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তাদের বক্তব্য, রস্তুম আলী ফরাজী তার লোকজন দিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ উদ্দিন পলাশ বলেন, ২০০১ এর নির্বাচনে ডা. রস্তুম আলী ফরাজী বিএনপি জামাত জোট থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নামে মামলা হামলা দিয়ে হয়রানী করেছে। আবার ২০১৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে। তিনি আওয়ামী লীগ দলীয় কর্মীদের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন। এলাকার উন্নয়ন দৃশ্যমান দেখাতে পারেন নি। এ কারণে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।

ডা. রস্তুম আলী ফরাজীকে মহাজোটের প্রার্থী দেয়া হলে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা মানবেন না বলে জানান জাহিদ উদ্দিন পলাশ। দলে কোন্দল আছে এ বিষয়টি স্বীকার করে জাহিদ উদ্দিন পলাশ বলেন, নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে কোন কোন্দল থাকবে না। নৌকা প্রতীক যাকে দেয়া হবে আমরা তার পক্ষে কাজ করবো। ডা. রস্তুম আলী ফরাজী যদি নৌকা প্রতীক নিয়ে আসেন তাহলে কি করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফরাজীর নৌকা প্রতীক নিয়ে আসার কোন সুযোগ নেই, কারন তিনি এখন জাতীয় পার্টি করেন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শরনখোলা থানার কমান্ডিং অফিসার  মজিবুল হক খান মজনু বলেন, ডা. রস্তুম আলী ফরাজী মবাড়িয়ার তিন বারের সংসদ সদস্য। এ সময়ে তার মুখ থেকে জয়বাংলা শ্লোগান শোনা যায় নি। মজিবুল হক খান মজনু’র ভাষ্য ২০১৪ সালের নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ নৌকাকে হারিয়ে ফরাজীকে বিজয়ী করেছে। তিনি বলেন জয়বাংলা বলবে না, এমন প্রার্থী দেয়া হলে আমরা তাকে মেনে নেব না।

শাপলেজা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও শাপলেজা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিরাজ মিয়া বলেন ডা. রস্তুম আলী ফরাজী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫শ’ নেতা-কর্মীর নামে মামলা দিয়েছেন তার অনুগতদের দিয়ে। শুধু শাপলেজা ইউনিয়ন যুবলীগ ছাত্রলীগের নামে ১১টি মামলা দেয়া হয়েছে। যা আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। মিরাজ মিয়া বলেন, যাদের নামে রস্তুম আলী ফরাজী মামলা দিয়েছেন তারা কি তার পক্ষে কাজ করবে? ডা. রস্তুম আলী ফরাজীকে গেল সংসদ নির্বাচনে আমরা শাপলেজা ইউনিয়ন থেকে ৪ হাজার ৭শ’ ভোট দিয়েছি। আর  নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ হাজার ৭শ’ ভোট। ডা. রস্তুম আলী ফরাজী প্রকাশ্যে সভায় ছাত্রলীগ যুবলীগকে চোর-ডাকাত বলেছেন।

ডা. রস্তুম আলী ফরাজীর বিষয়ে মন্তব্য জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর এর মোবাইল ফোনে শনিবার থেকে এ পর্যন্ত একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আরিফ-উল-হক জানান, ডা. রস্তুম আলী ফরাজী গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাংশের উপর ভর করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর তিনি সবচেয়ে বেশী জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উপর। বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে আমাদের যে দলীয় সদস্য ছিল তা তিনি সব বাদ দিয়েছেন এবং বিভিন্ন হয়রানীমূলক মামলা দিয়েছেন। আমরা চাই এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী দেয়া হোক।

২০১৪ এর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. রস্তুম আলী ফরাজীর সাথে হেরেছেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-সভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেন। আলাপকালে তিনি বলেন, গতবারতো আমাকে দলের লোকজনে হারিয়েছে।  আওয়ামী লীগের কোন্দলে ফরাজী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। আপনি খুঁজে দেখেন ফরাজীর ৫/৬ হাজার ভোট আছে কিনা।

ডা. রস্তুম আলী ফরাজী গেল বছরের শেষের দিকে ঢাকায় এরশাদের উপস্থিতিতে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এরপর এরশাদ ফেব্রুয়ারীতে মঠবাড়িয়ায় এক জনসভায় রস্তুম আলী ফরাজীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়েদেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। আলাপকালে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. রস্তুম আলী ফরাজী  বলেন, আমি কোন অনিয়ম-দুর্নীতি করিনা এ কারণে  মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। মানুষ আমাকে ভাল বেসে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। কাউকে আমি হয়রানী করেছি একথা ঠিক না। এরপর তিনি বলেন, আমি জাতীয় পার্টিতে যোগদানের পর মঠবাড়িয়ায় ফেরার পথে মঠবাড়িয়ার সাফা বন্দর এলাকায় আমার গাড়ী বহরে হামলা করে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আশরাফুর রহমানের লোকজন। এতে আমার কয়েকজন কর্মী আহত হয়।

পিরোজপুরের সবচেয়ে বড় উপজেলা মঠবাড়িয়া। একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলা। যেটির সংসদীয় আসন হল পিরোজপুর-৩। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮৬ জন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial