মঠবাড়িয়ায় স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় ভূয়া কর্ণেল গ্রেফতার
সেনাবাহিনীর চিকিৎসক কর্ণেল পরিচয় দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে এক যুবতীকে বিয়ে করে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে আটকে রাখার অভিযোগে প্রতারক ওই ভূয়া কর্ণেল ডা. আলমগীর হোসেন (৬০) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। দাবীকৃত যৌতুকের ৫লাখ টাকা না দেয়ায় প্রথম স্ত্রীর সহায়তায় দ্বিতীয় স্ত্রী নাজনিন আক্তার (২৩) কে মারধর করে আটকে রাখায় দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন মামলায় তাকে শুক্রবার রাতে মঠবাড়িয়া উপজেলার বকসির ঘটিচোরার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বরিশালের মুলাদী থানার কাজীরচড় এলাকার নুর মোহাম্মদ হাওলাদারের সাথে ২০১৩ সালে মঠবাড়িয়ার বকসির ঘটিচোরা গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের পুত্র আলমগীর হোসেন এর পরিচয় হয়। সে নিজেকে সেনাবাহিনীর চিকিৎসক ও কর্ণেল দাবী করে। এছাড়াও আলমগীর সৌদি রাজ পরিবারের সাথে তার বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবসা আছে বলে জানায়। ওই সময় আলমগীর তার প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে নুর মোহাম্মদের কাছে ব্যবসা দেখাশুনা ও সংসার পরিচালনার জন্য একজন উচ্চ শিক্ষিত মেয়ের দরকার বলে জানান। নুর মোহাম্মদ সরল বিশ্বাসে তার কলেজ পড়–য়া মেঝ মেয়ে নাজনিন আকতারের সাথে আলমগীরের ২০১৩ সালের ৩ মে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক রেজিষ্ট্রি কাবিন মূলে বিয়ে দেন। পরে জানতে পারেন ঐ আলমগীরের স্ত্রী ও মেয়ে রয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আলমগীর নিজেকে জে.এফ কম্পোজিট টেক্সটাইল লিঃ চেয়ারম্যান দাবী করে ওই কোম্পানিতে বিভিন্ন পদে লোক নেয়া ও সৌদি আরবে লোক পাঠানোর কথা বলে শশুর নুর মোহাম্মদের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। সম্প্রতি প্রতারক আলমগীর নাজনিনকে মঠবাড়িয়ার বাসায় এনে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে। নাজনিন যৌতুক দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে তাকে প্রথম স্ত্রীর সহযোগিতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে বেদড়ক মারধর করে বাথরুমে আটকে রাখে।
খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে আহত নাজনিনকে দুই দিন পর থানা পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এসময় পুলিশ ভূয়া কর্ণেল ডা. আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম ছরোয়ার বলেন, যৌতুক মামলায় আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
