প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে ধর্ষকের সহায়তাকারীর পক্ষ নিয়ে ফোনে আওয়ামী লীগ নেতার হুঙ্কার

স্বরূপকাঠীতে সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য একটি ধর্ষন অভিযোগের ঘটনায় সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত’র ব্যাপারে ফোন দিয়ে জানতে চাওয়ায় সংবাদকর্মীকে হুমকি দিলেন এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা। ধর্ষনে সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত শিউলী’র ব্যাপারে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ফোন দিলে মো. ফজলুল হক খোকন নামের ওই আওয়ামী লীগ নেতা সংবাদকর্মীকে হুমকি দেন। অভিযুক্ত শিউলী উপজেলার সুটিয়াকাঠি গ্রামের রাজ্জাক মিয়ার স্ত্রী।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শিউলীর স্বামী রাজ্জাক মিয়ার ফোনে ফোনটি দেয়া হলে রাজ্জাক একটু কথা বলে তিনি ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে ফোন ধরিয়ে দেন। তখন প্রভাবশালী ওই আওয়ামী লীগ নেতা ফোন  ধরে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করাসহ নানা হুমকি-ধামকি দেন। প্রভাবশালী ওই নেতা উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আছেন বলে দাবী করেছেন। ধর্ষনের শিকার অভিযোগকারী মহিলা গৌরনদী থানার কমলাপুর গ্রামের কবির কবিরাজের মেয়ে। আর অভিযুক্ত ধর্ষক মানিক সিকদার পটুয়াখালি জেলাধীন বুদুপুর বাজার নামে একটি গ্রামের ছেলে। এ রিপোর্ট লেখা আগ পর্যন্ত বর্তমানে ওই মহিলা স্বরূপকাঠী উপজেলার প্রধান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তিনি দাবী করেছেন ওই মহিলা মানিকের লালসার শিকার হয়ে বর্তমানে দেড় মাসের গর্ভবতী হয়েছেন। যুবতী মহিলা কহিনূর স্ত্রীর অধিকার নিয়ে মানিকের কাছে বিয়ের দাবী তুললে তাকে বেদম মারপিট করা হয়। এজন্য তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মানিক সিকদার স্বরূপকাঠী উপজেলার মিয়ারহাট বাজারের জহির নামে একজন ডিলারশীপের প্রতিনিধি হিসেবে চারকী করে সুটিয়াকাঠির রাজ্জাক মিয়ার ঘরে ভাড়া থাকতেন।

অভিযোগকারী ধর্ষিতা কহিনূর লিখিত অভিযোগসহ বলেন, মানিক এক সময় তাদের গৌরনদীতে একটি কোম্পানীর প্রতিনিধি হিসেবে চাকরী করতেন। এসময় তাদের দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের প্রেমের সম্পর্ক দু’বছর গড়ালে মানিক সিকদার বদলি জনিত কারনে স্বরূপকাঠীর মিয়ারহাটে জহির মিয়ার ডিলার শীপে আসেন। সেখানে রাজ্জাক মিয়ার ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন মানিক। তখন প্রেমিক মানিক সিকাদারের ফোন পেয়ে মাসের মধ্যে দু’চার বার প্রেমিকা কহিনূর তার বাসায় আসতেন। এই ঘন ঘন আসা-যাওয়ার মধ্যেই তাদের দু’জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একজন ব্যাচালার যুবকের কাছে একটি যুবতী মহিলার ঘন ঘন আসা-যাওয়া যাতে এলাকায় দৃষ্টিগোচর না হয় সে জন্য তাদের দু’জনের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক বলে বাড়ীওয়ালি শিউলী এলাকায় চালিয়ে দিতেন। এভাবে অব্যাহত শারীরিক সম্পর্কে প্রেমিকা কহিনূর দেড় মাসের অন্তস্বত্তা হয়ে পড়ে। কহিনূর সন্তানের পরিচয় নিয়ে মানিকের কাছে বিয়ের দাবী তুললে প্রেমিক মানিক সিকদার তাকে বেদম মারপিট করে। বাড়ীওয়ালি শিউলী মানিকের পক্ষ নিয়ে তাকে পালিয়ে  যেতে সাহায্য করে বলে কহিনূর অভিযোগ করেন। ঘটনাটি শুনে এ বিষয়ে জানার জন্য ফোন দেয়া হলে ওই আওয়ামী লীগ নেতা সংবাদকর্মীকে হুমকি দেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial