প্রাথমিকে দেশ শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী মেরিন খানের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
‘অজানা এক স্রোতের মাঝে হারিয়েছি সাথীরে …. মালা কার লাগিয়ে গাথী… ’ এই গানের সুরের মূর্ছনায় হাজার-হাজার দর্শকদের যে মাতোয়ারা করে তুলত এবং এই গানটি গেয়ে সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারী সাড়া জাগানো সেই শিশুশিল্পী মেরিন খান এখন চরম অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি দেখা দেওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ পরিস্থিতিতে পরিবারে আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের চিকিৎসার ব্যাপারে মেরিনের মা-বাবা চরম হতাশায় ভুগছেন। মেয়ের চিকিৎসার জন্য সরকার এবং বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
জানা গেছে, আন্তঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারী বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার পুরাতন কালশিরা গ্রামের ওবায়দুল হকের মেয়ে মেরিন খান দীর্ঘদিন ধরে কন্ঠনালীর সমস্যায় ভুগছে। এ অবস্থায় তাকে দেশের নামকরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাকে চিকিৎসা করানোর পরেও তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি দেখা দেওয়ায় এখন তার পরিবার চরম হতাশায় দিন গুনছে। এ পরিস্থিতিতে মেরিনের পড়াশুনা বন্ধ হতে বসেছে। মেরিন কালশিরা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। অসুস্থতার কারণে এখন আর স্কুলে যেতে পারছে না সে।
মেরিনের বাবা বাগেরহাট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ওবায়দুল হক হতাশা প্রকাশ করে জানান, মেয়েটির খুব ভালো গানের গলা ছিলো, কিন্তু এখন আর গাইতে পারেনা সে। মেয়েকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেন তিনি, কিন্তু মেয়ের অসুস্থার কারণে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় পল্লীগীতিতে ২০১৫ সালে মেরিন সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে। এ সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন করে মেরিন। এরপর একে একে অনেক পুরস্কার ঘরে এসেছে কিন্তু এখন মেরিনের সামনে কেবলই অন্ধকার। বিছানায় শুয়ে শুয়ে দিন কাটে তার। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রীন লাইফ হসপিটল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা ইসলামিক ব্যাংক হাসপাতালসহ দেশের অনেক নামকরা হাসপাতালে চিবিৎসার জন্য মেরিনকে নেয়া হয়েছে কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি একট্ওু। দিন দিন সে আরো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে মেয়ের চিকিৎার পেছনে ছুটতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে ওই পরিবারটি। এখন বাইরে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়ার মতো কোন অবলম্বন নেই তাদের। এ অবস্থায় মেরিনের চিকিৎসার জন্য সরকার এবং বিত্তবানদের সহায়তা ছাড়া কোন উপায় নেই। যদি কোন হৃদয়বান মেরিনের চিকিৎসার ব্যাপারে সহযোগিতা করতে চান তাহলে এই ০১৯১৪০০৬২২৪ নম্বরটিতে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া ব্যাংক হিসাব নং- ২৯০৩৩০১০১৬০০৫, সোনালী ব্যাংক, চিতলমারী শাখা, বাগেরহাট এর মাধ্যমে সাহায্য পাঠানো যেতে পারে।
সম্মীলনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল শিকদার জানান, মেরিন তার স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সে স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছে। অসাধরণ গানের কন্ঠ তার। দেশ সেরা এ শিশুশিল্পী আমাদের গর্ব। এজন্য সকলের এগিয়ে আসা দরকার।
