প্রধান সূচি

বাগেরহাটে শত বছরের পুরোনো ভবনে চলছে জেলা রেজিষ্টার অফিসের কার্যক্রম

শত বছরের পুরোনো পরিত্যাক্ত ভবনে চলছে বাগেরহাট জেলা রেজিষ্টার অফিসের কার্যক্রম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দলিল লেখকরা।

প্রায় ২০ বছরের অধিক রেজিষ্ট্রি অফিসের জমিজমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ন  কার্যক্রম চলছে এ ভবনে। বর্তমানে ভবনটিতে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা। সংস্কারের অভাবে শত বছরের পুরাতন এ ভবনে জেলাবাসীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তির দলিল ও অতি প্রয়োজনীয় নথিপত্র  বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিতে ভিজে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যা প্রয়োজনের সময় শতচেষ্টা করেও উদ্ধার করা যাবে না।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাট পৌরসভার সরুই মৌজায় ৫৪ শতক জমিতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই ভবনে ব্রিটিশ উপনিবেশিকদের বিচারিক কার্যক্রম চলতো। এরপর পাক শাসনামলে এটি তৎকালীন পাকিস্তানীদের আদালত ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বাধীনতার পর বাগেরহাট সাব ডিভিশন কর্মকর্তার (এসডিও কোর্ট) সকল বিচারিক কার্যক্রম করা হতো ব্রিটিশদের নির্মিত এই ভবন। এসডিও কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম করা হতো যা বর্তমান বগেরহাট জেলা প্রশাসকের বাসভবন। আর এটি ছিলো এডিএম কোর্ট পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারী জাতীয় পার্টি শাসনামলে বাগেরহাট জেলা ঘোষণা হবার পর নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের পাশে জেলা জজ কমপেক্স ভবন নির্মান করা হলে ১৯৯৭ সালে ভবনটি জেলা রেজিষ্ট্রার ও সদর সাব রেজিষ্ট্রার এবং সদর মহাফেজ খানার জন্য বরাদ্দ প্রদান করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।  সেই থেকে পুরাতন এ ভবনে জেলা রেজিষ্ট্রার অফিস, সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস ও সদর রেকর্ড রুমের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে ভবনটি একেবারে ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। যে কোন মূহূর্তে ঘটতে পারে ভয়াবহ প্রাণহানীসহ দূর্ঘটনার ঘটনা।

২০১২ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষনা করে। এর প্রেক্ষিতে জেলা রেজিষ্ট্রারের কার্যালয় করার জন্য নতুন ভবনের বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু ভবন করার জন্য জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই পুরোনো এ ভবনেই চলছে জেলা রেজিষ্ট্রার অফিসের কার্যক্রম।

রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল করতে আসা রহিম উদ্দিন বলেন, এখানে দলিল করতে এসেছি। ভিতরে ঢোকার পরে ছাদের অবস্থা দেখে আমার খুব ভয় লাগছে।

বাগেরহাট দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ভবনটির ছাদ থেকে পানি পড়ে। যার কারণে আমাদের কাজ করতে খুব সমস্যায় পড়তে হয়।

রেকর্ড রুমের একজন কর্মচারী বলেন, আমাদের আশপাশের জেলাগুলোতে জেলা রেজিষ্ট্রারের নিজস্ব ভবন রয়েছে। আমাদের এখানে নিজস্ব ভবন নেই। আর যে ভবনে আমরা কাজ করি তার অবস্থা খুবই সোচনীয়। যে কারণে মূল্যবান অনেক রেকর্ডপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যা পরবর্তীতে কোনভাবেই পাওয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে কাজ করি। প্রতিনিয়তই ছাদ থেকে বালু এবং খোয়ার টুকরো খঁসে পরে।

বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সতীনাথ বসাক বলেন, আমরা ২০১২ সালে ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করি। পরে একাধিবার তাদেরকে চিঠি দিয়েছি। তারপরও তারা এ ভবনে কাযর্ক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ তাদের নামে ভবন বরাদ্ধ হয়েছে জানিয়েও চিঠি দেয়া হয়েছে। জেলা রেজিষ্ট্রার অফিস ভবনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করলে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ শেষে ভবন নির্মান শুরু করা যাবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial