মঠবাড়িয়ায় মিল মালিকের বিরুদ্ধে নারী শ্রমিকদের শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ
মঠবাড়িয়ায় এক প্লাষ্টিক গুড়া করা মিল মালিকের বিরুদ্ধে একাধিক নারী শ্রমিকের শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ উঠছে। এ ঘটনায় ওই মিলের কয়েক নারী শ্রমিক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী পশ্চিম রাজপাড়া গ্রামের এক নারী শ্রমিক জানান, গত তিন মাস আগে বড়মাছুয়ার বাজারে ব্রীজ সংলগ্ন প্লাষ্টিক গুড়া করা মিলে প্রতিদিন দেড়’শত টাকা মজুরীতে কাজ নেন। ৭/৮মাস কাজ করার পর মিল মালিক শৈলেন বিভিন্ন সময় তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার সাথে কথায় কথায় দুর্ব্যবহার শুরু করেন। একদিন মিলে কাজ করার ফাঁকে ওই নারীকে লম্পট শৈলেন শ্লীলতাহানীর চেষ্টা ঘটায়। এ ঘটনা বাহিরের লোক জানাজানি হলে ওই নারী শ্রমিকের এক মাসের বেতন না দিয়ে মিল মালিক শৈলেন চাকরীচ্যুত করেন। তিনি আরও জানান, তার সামনেই অনেক নারী শ্রমিককে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানী করলেও প্রভাবশালী হওয়ায় অসহায় নারীরা মুখ খুলতে সাহস পায়না।
ওই মিলের অপর আরেক নারী শ্রমিক (২৫) কালিরহাটের বাসিন্দা এক সন্তানের জননী জানান, স্থানীয় বড়মাছুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া ছেলের খরচ চালানোর জন্য তিনি ওই মিলে একই বেতনে শ্রমিকের কাজ নেয়। সম্প্রতি একা পেয়ে মিল মালিক শৈলেন জোর করে অনৈতিক কাজ করার জন্য তার বাম হাত ধরে টান দেয়। এসময় চিৎকার দিয়ে মিল থেকে বের হওয়ার সময় ওই নারী গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এ কারণে তারও এক মাসের বেতন দেননি বলে অভিযোগ করেন। স্থানীয়রা জানান, লম্পট শৈলেনের বিরুদ্ধে একাধিক নারী গঠিত কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে।
বড়মাছুয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মৃধা জানান, শৈলেন একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। সে চাঁদপুরের হাইমচরের বাসিন্দা এবং তার প্রকৃত নাম পরিতোষ মজুমদার। সে রায়পুরা লক্ষীপুরে প্লাস্টিকের মিল করে স্থানীয় সাজু মোল্লাসহ কতিপয় লোকদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গত তিন বছর আগে পালিয়ে মঠবাড়িয়ায় এসে শৈলেন কুলু নাম দিয়ে মিল ব্যবসা চালু করে।
এ ব্যাপারে শৈলেন কুলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে ফোন কেটে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে রাখেন।
বড়মাছুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার স্বামী পরিত্যাক্তা নারী শ্রমিক কর্তৃক লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে কঠোর বিচার করা হবে।
