স্বরূপকাঠীতে ধরা ছোঁয়ার বাইরে শীর্ষ মাদক সম্রাট ফুয়াদসহ হাফ ডজন মাদক ব্যবসায়ী
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে উপজেলার আলোচিত মাদক সম্রাট ফুয়াদসহ অর্ধ ডজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। স্বরূপকাঠি পৌর এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় তেমন কোন জোড়ালো মাদক বিরোধী অভিযান না চলায় ফুয়াদসহ এসব মাদক ব্যবসায়ীরা রয়েছে বহাল তবিয়তে।
তবে পুলিশের দাবী বিশেষ অভিযানে তারা কয়েকজন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী ধরেছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকলে ফুয়াদ আইনের হাত থেকে কোন মতে রেহাই পাবেনা। মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ দেশব্যাপী মাদক বিরোধী কঠোর অভিযান শুরু হলেও ফুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা ডিলেঢালা থাকায় ওই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে।
থানায় ফুয়াদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। ছোটখাট পুলিশী অভিযানকে পাত্তা দিচ্ছেন না এসব প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীরা। ফুয়াদের সাথে আইনশৃংখলা বাহিনীর কিছু অসৎ সদস্যের যোগসুত্র আছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন আছে। যে কারণে বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে প্রশাসনের কোন লোকই সহসা ফুয়াদকে ধরতে পারছেনা।
এলাকাবাসীর দাবী মাদক স¤্রাট ফুয়াদ গ্রেফতার হলে এলাকা অনেকটা মাদকমুক্ত হয়ে যাবে।
জানা গেছে, স্বরূপকাঠী পৌর এলাকার দক্ষিন জগন্নাথকাঠী গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ফুয়াদ হোসেন গত দেড় যুগ ধরে অব্যাহতভাবে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এরমধ্যে র্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছে। তবে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে আবার বীর দর্পে সে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে সেই দলের স্থানীয় কোন না কোন রাজনীতির ছদ্দবেশধারী ক্যাডারদের আশ্রয়তলে থেকে সর্বজায়গায় ম্যানেজ করে ফুয়াদ রমরমা মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। জগন্নাথকাঠীর আমির হাজী বাড়ি ও মৌলভী বাড়ির এলাকায় রয়েছে ফুয়াদের আস্তানা। একই পাড়ার আরো এক ডজনেরও বেশী খুচরা সরবরাহকারী রয়েছে ফুয়াদের বাহিনীতে। মাদক বিক্রি করতে সে আরো প্রায় এক ডজন টিনএজ ক্যাডারকেও নতুন করে ব্যবহার করছে।
এদিকে দাপটের সাথে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দক্ষিন স্বরূপকাঠীর বহুল আলোচিত জাকারিয়া জাকু।
সেহাংগল এলাকার থ্রি স্টার মাদক ব্যবসায়ী শাকিল ও মুন্না এবং নুহাস দাপটের সাথে জুলুহারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবাধে মাদক ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্বরূপকাঠী কাউখালি থানার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. শাহ্ নেওয়াজ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। লোকমুখে শুনেছি ফুয়াদ একজন মাদক ব্যবসায়ী। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা পেলে ফুয়াদ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেনা। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ, গত ২৮ মে রাতে পিরোজপুর ডিবি পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয় সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের ইন্দুরহাট এলাকার ওয়াহিদুজ্জামান নামে এক মাদক স¤্রাট। ওয়াহিদ নিহত হওয়ার খবর জানার পরেও স্বরূপকাঠীর এসব মাদক স¤্রাটদের মধ্যে কোনো আতংক আছে বলে মনে হয় না। এসব মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় থেকেই গাঢাকা অবস্থায় সতর্কতার সাথে মাদক ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে বলে বিভিন্ন সুত্র জানান।
