প্রধান সূচি

চিতলমারীতে ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে চাষিদের স্বপ্ন

এখন শুধু চোখে-মুখে চাষিদের দুশ্চিন্তার ছাপ। কিভাবে কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলবে সে চিন্তায় দিশেহারা চাষিরা। গত কয়েক দিনের ঝড় ও ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে অধিকাংশ জমির ফসল। টাকায়ও মিলছে না ধান কাটা শ্রমিক। জমিতে নষ্ট হতে বসেছে কাটা ধান। এ অবস্থায় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শত শত চাষিদের মাঝে এখন চরম হতাশা বিরাজ করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর এলাকায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বড়বাড়িয়া, কলাতলা, হিজলা, শিবপুর, চিতলমারী সদর, চরবানিয়ারী ও সন্তোষপুর ইউনিয়নে ১১ হাজার ৯শ’ ১৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও উপসি জাতের বোরো আবাদ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার কিন্তু প্রতি দিনের ঝড়-বৃষ্টি এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে চাষিদের।

বর্তমানে এসব ফসল ঘরে তোলার সময় হলেও হঠাৎ করে ঝড়-বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমির ফসল তলিয়ে গেছে। পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শত শত হেক্টর জমির ফসল। চোখের সামনে এ ক্ষতি দেখেও যেন কিছু করার নেই তাদের। প্রতিদিনই ঝড়-বৃষ্টি লেগে থাকায় চাষিদের জন্য চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। এলাকার অধিকাংশ চাষিরা বিভিন্ন ব্যাংক,এনজিও এবং সুদেকারবারীদের কাছ থেকে অধিক মুনাফায় টাকা এনে চাষাবাদে ব্যয় করেছেন। এ অবস্থায় তাদের শেষ অবলম্বন বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

উপজেলার চরবানীয়ারী ইউনিয়নের শ্যামপাড়া গ্রামের বোরোচাষি নির্মল ম-ল, উজ্জ্বল ম-ল, শ্রীরামপুর গ্রামের বিজয় বালা, সবুজবালাসহ অসংখ্য চাষি হতাশা প্রকাশ করে জানান, সুদে, কর্যে টাকা এনে চাষাবাদে ব্যয় করেছেন তারা। বোরো ফসল ছিলো তাদের একমাত্র অবলম্বন। সেটি এখন পানির নিচে নষ্ট হচ্ছে। টাকায়ও শ্রমিক মিলছে না এলাকায়। যেসব শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের প্রতিদিন ৭ থেকে ৮শ’ টাকা হাজিরার দাম দিতে হচ্ছে। মুজুরির টাকার ফসল সেটিও একজন শ্রমিক ঘরে তুলে দিতে পারেন না। এ পরিস্থিতিতে সামনে কিভাবে বেঁচে থাকবেন সে চিন্তাায় এখন দিশেহারা চাষিরা। এ বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যায় চিংড়ি ঘেরের মাছ ভেসে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে সবজি ক্ষেত। এলাকার লোকজনের একমাত্র ভরসা ছিলো এই বোরো ফসলটি ঘিরে সেটি এখন ঘরে তোলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কিভাবে এখন মহাজনদের দেনা শোধ করবেন সেটি ভেবে পাচ্ছেন না তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় কারণে চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাকা ফসলের জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। অবহাওয়া পরিবর্তন হলে এসব ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial