প্রধান সূচি

দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্বরূপকাঠি ইসলামী ব্যাংক মিয়ারহাট শাখার সুপারভাইজার গ্রেফতার

স্বরূপকাঠি ইসলামী ব্যাংক মিয়ারহাট শাখার সুপারভাইজার বহুল আলোচিত সাবেক শিবির নেতা মাহবুবুল আলম নাঈম-কে দু‘কোটি টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্যাংকের গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে তাকে আটক করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্থান্তর করেন। বৃহস্পতিবার রাতে বাদী হয়ে স্বরূপকাঠি থানায় মামলা দায়ের করেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড কৌড়িখাড়া শাখার ব্যাবস্থাপক মো.আবু জাফর খান। গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বলে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগে থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে। পুলিশ শুক্রবার সকালে নাঈমকে আদালতে প্রেরন করেছেন।
অভিযোগে জানাগেছে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামের শাহ আলম ফকিরের ছেলে মাহবুবুল আলম নাঈম ২০০৭ সালে ২ অক্টোবর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর কৌড়িখাড়া শাখায় ক্ষুদ্র ব্যবসা বিনিয়োগ প্রকল্পে (এসবিআইএস) সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ পাইয়া কর্মরত ছিলেন। তিনি ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের নামে বিনিয়োগ পাশ করাইয়া নানা নিয়মকানুন ও টালবাহানা করিয়া গ্রাহকদের সম্পূর্ন টাকা না দিয়া অথবা ফর্মে টাকার অংক না বসাইয়া গ্রাকদের স্বাক্ষর নিয়া টাকা অত্মসাৎ করে আসছিল। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে গ্রাহকদের মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাংকের গোচরীভুত হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলতে থাকে।
মাহবুবুল আলম নাঈম পালাইয়া যাইতে পারে এমন আশংকা থেকে গত বৃহস্পতিবার গ্রাহকরা তাকে আটক করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানালে শাখা ব্যবস্থাপক মো. আবু জাফর, সুপারভাইজার নাঈমকে পুলিশে সোপর্দ করে ওই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি উলে¬খ করেছেন আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমান দুই কোটি হবে। তবে, ভুক্তভাগী গ্রাহক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে সুপার ভাইজার নাঈমের টাকা আত্মসাৎতের পরিমান তিন কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
অভিযুক্ত মাহবুবুল আলম নাঈম জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্ন্যা গ্রামের শাহ আলম ফকিরের বড় ছেলে। নাঈম শিক্ষা জীবনে শিবিরের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে জেলার শীর্ষ নেতাদের নজরে পরে এবং ২০০৬-২০০৭ সালে তিনি পিরোজপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি নির্বাচিত হন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শিবিরের সাবেক এই নেতা এক এগারোর পর রাজনীতির মাঠ ছেড়ে দলীয় পরিচয়সূত্রে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর মিয়ার হাট শাখায় এসবিআইএস সুপারভাইজার পদে মাত্র ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি নেন। তখন তার পরিবারে অবস্থা খুব একটা ভাল ছিলনা। বর্তমানে তার বেতন ২৬ হাজার টাকা। ৮/৯ বছরেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনেগেছেন নাঈম। নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা নাঈম কোটিপতি হওয়ার জন্য বেছে নেন ইসলামি ব্যাংককে। কখনো মানুষের স্বাক্ষর নকল করে, আবার কখনো ভুয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে কিংবা নকল কাগজ পত্র তৈরী করে লোন গ্রহীতার অজান্তে এসব লোন নিয়ে নাঈম টাকার মালিকবনে যান। উপজেলায় হয়ে ওঠেন বিশিষ্ট ধনকুবের। তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, ২ সন্তান, পিতামাতা ও দুই ভাই। যৌথ পরিবারেই বসবাস করেন নিজেসহ তার দুই ভাই ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে বেনামে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। পিরোজপুর জেলা সদর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, পিরোজপুর পুরাতন বাস স্টান্ড এর কাছে ৪ টি ও পুলিশ লাইনের কাছে ২ টি, নামাজপুরে ২ টি বাড়ি সহ প্রায় ১৫ টিরও বেশি বাড়ি/প¬ট ক্রয় করেছেন এই সময়ের মধ্যে। এ ছাড়াও তার গ্রামের বাড়ি নেছারাবাদ থানাধীন বলদিয়া ও তার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের খাড়াবাগে গড়েছেন কয়েকটি বাড়ি সহ বিশাল মাছের ঘের ও পোল্ট্রি ফার্ম। রয়েছে পোল্ট্রি ফিডের ব্যবস্যা। সবমিলিয়ে বর্তমানে তার প্রায় ৫ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ রয়েছে।
এলাকায় নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে পরিচিতি করার জন্য নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি প্রতিবন্ধী স্কুল (জিরবাড়ী প্রতিবন্ধী স্কুল)। নাইমের এত সম্পদ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হলে এক এক করে বেরিয়ে আসছে নানা অজানা তথ্য।
এলাকাবাসীসহ ভুক্তভোগীদেও দাবী তার পরিবার বর্গকে ধরে সুষ্ঠ তদন্ত করা হলে সব কিছু বেরিয়ে আসবে।

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial