তারেক রহমান, শহীদ জিয়ার প্রতিচ্ছবি
ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ গড়ার এক দু:সাহসী মহানায়ক
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুই ভিন্ন সময়ের সন্ধিক্ষণ হলেও, নেতৃত্বের আদর্শে ফুটে উঠেছে এক অভাবনীয় ও অভিন্ন প্রতিচ্ছবি। ১৯৭৫ এর শেখ মুজিবের একনায়ক উত্তর-বিপ্লব পরবর্তী মহাসংকটময় সময়ে যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরেছিলেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রæয়ারির নির্বাচনের পর এক ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান। জনমনে আজ তাই কেবল একটিই বিশ্বাস- ‘তারেক জিয়াই আরেক জিয়া’।
মহাসংকটে কান্ডারি ও স্বনির্ভরতার স্বপ্ন পুরুষ :
জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন, তখন দেশ ছিল দুর্ভিক্ষ পীড়িত ও তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদে জর্জরিত। তিনি কোদাল হাতে মাঠে নেমে খাল খনন করে কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশের ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।
বর্তমান বাংলাদেশের চিত্রও একই- আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের লুণ্ঠনে দেশ যখন দেউলিয়া, ঠিক সেই মহালগ্নেই তারেক রহমান জাতির ত্রাতা হিসেবে আবির্ভ‚ত হয়েছেন তারেক রহমান। বাবার মতো তিনিও কোদাল হাতে খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে পুনরায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।
শিশুদের ভবিষ্যৎ ও মাথা উঁচু করে বাঁচার ডাক দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। শিশুদের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দেখতেন তিনি। তারেক রহমানের রাজনীতিতেও শিশুদের প্রতি সেই একই মমতা ও দূরদর্শী ভাবনা বিদ্যমান। তিনি বিশ্বাস করেন, আজকের শিশুরাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কারিগর। সবচেয়ে বড় সাদৃশ্যটি ফুটে উঠেছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে। জিয়াউর রহমান যেমন কোনো বিদেশি শক্তির তাঁবেদারি পছন্দ করতেন না। তিনি বাঙালি জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মাথা উঁচু করে বাঁচার। অনুরূপভাবে তারেক রহমানও আজ অপশক্তির শিকল ভেঙে দেশের মানুষকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
নারীদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী সমাজ গড়তে জিয়াউর রহমান বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নারীদের মধ্যে থেকে উদ্যোক্তা ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তারেক রহমান আজ সেই ধারাকে আরও আধুনিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও কুটির শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রতিটি নারীকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি হয়েও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। অতি সাধারণ জীবন যাপন করতেন। তাঁর সন্তানরা কখনো চিন্তাও করতে পারেনি তারা রাষ্ট্রপ্রধানের সন্তান, গ্রহণ করতেন না পরিবারের জন্য কোন বাড়তি সুবিধা। তারেক রহমানের মাঝেও সেই বিরল চারিত্রিক দৃঢ়তা বিদ্যমান। ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের মতোই জীবন যাপন করেন এবং তাঁর সন্তানদেরও সাধারণ ও আড়ম্বরহীন জীবন যাপনে উৎসাহিত করেন। রাষ্ট্রের কোনো বিশেষ সুবিধাই তাঁর পরিবারের স্পর্শ পায় না।
সুসংগঠিত দল ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায় বিশ্বাস করতেন জিয়াউর রহমান। তিনি বিশ্বাস করতেন, সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতন্ত্র সফল হয় না। তাই তিনি দাপ্তরিক কাজ শেষে বিশ্রাম না নিয়ে সরাসরি দলীয় কার্যালয়ে এসে গভীর রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সাথে দল গোছানোর কাজ করতেন। তারেক রহমানও আজ সেই একই পথে হাঁটছেন। নিজের দাপ্তরিক কাজ শেষ করে তিনি নিয়মিত দলীয় অফিসে সময় দিচ্ছেন, তৃণমূলের কর্মীদের সাথে বসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দলকে শক্তিশালী করার কৌশল আঁটছেন।
প্রতিহিংসা নয়, উন্নয়নের রাজনীতি :
তারেক রহমান দেশের রাজনীতি। তিনি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন- ‘আগে জীবিকা নির্বাহের একটি বৈধ পথ সৃষ্টি করুন, তারপর রাজনীতি করুন।’ তাঁর মতে, রাজনীতির প্রতিযোগিতা হতে হবে এলাকার উন্নয়ন ও কল্যাণের মাধ্যমে।
সততা, দেশপ্রেম আর ত্যাগের মহিমায় তারেক রহমান আজ এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। এক তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জিয়াউর রহমান দেখেছিলেন, তারেক রহমানের হাত ধরেই তা আজ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
লেখক : আহবায়ক, পিরোজপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহŸায়ক পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদল।
