প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে অটোরিক্সা চালকদের জিম্মি করে চলছে চাঁদাবাজি

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চালকদের জিম্মি করে রাজনৈতিক আশ্রয়ের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদা উঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে রিক্সা চালকদের মাঝে তীব্র চাপাক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ সিন্ডিকেটটি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী অটোরিক্সা থেকে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা তুলে নিচ্ছে। অটোরিক্সা শ্রমিক সমিতির কল্যাণের নামে এ চাঁদা উঠানো হলেও কোন উপকার পাচ্ছেন না চালকরা।
অটোরিক্সা চালকদের দাবি, উপজেলায় অটোরিক্সা শ্রমিক সমিতি নামে একাধিক সংগঠন করে তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন চাঁদা তুলে নেয় রাজনৈতিক পরিচয়ে একটি মহল। রিক্সা ভর্তি ফি, লাইন খরচ, বছরে গাড়ী রিনিউসহ নানা খরচের নামে ওই টাকা তোলা হচ্ছে। চালকরা তাদের নির্ধারিত টাকা না দিলে উপজেলার কোন রুটে গাড়ি চালাতে দেয়া হয়না রিক্সা চালকদের। চালকরা বলছেন, এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোন ফলাফল পাচ্ছেন না তারা। তাই অনেকটা নীরব চাঁদাবাজি চলছে এই সেক্টরে।
অটোচালক সুজন সুতার অভিযোগ করেন, একটি নতুন অটোরিক্সা রাস্তায় নামাতে হলে কমিটিকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হয়। টাকা দেয়ার পরও প্রতিবছর পূনরায় পাঁচশত টাকা জমা দিয়ে রিনিউ করতে হয় রাস্তায় চলাচল করা সেই গাড়িটির। টাকা জমা না দিলে আর লাইনে অটোগাড়ি চালানো যায় না।
তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিক সংগঠনের কল্যাণের নাম করে এ চাঁদা নেয়া হলেও কোন অটোচালক দুর্ঘটনায় কবলিত হলে তখন এর দায় দায়িত্ব কোন সমিতি নেয় না। তিনি বলেন, চালকদের কাছ থেকে উঠানো টাকাগুলো সমিতির নামে জমা হয় না। এমনকি কোন আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং মাসিক কোন সভার নেই কোন ব্যবস্থা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মিয়ারহাট বাজার থেকে ডুবি বাজার ও পঞ্চবেকী বাজারে প্রায় এক হাজার, নান্দুহার বাজারে তিনশত, ইন্দুরহাট থেকে কলাখালী ট্রলার ঘাট পর্যন্ত ১২শত, স্বরূপকাঠি থেকে কাউখালী ফেরিঘাট ছয়শত, জগন্নাথ কাঠি বাজার থেকে আটঘর কুড়িয়ানা পর্যন্ত চারশত অটোরিক্সা চলাচল করে। প্রতিটি অটোরিক্সা থেকে দৈনিক ১০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতি বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা চলে যাচ্ছে একটি মহলের হাতে। শুধু তাই নয় কাউকে সেই টাকার হিসাব নিকাশ দিচ্ছেনা প্রভাবশালী মহলটি।
মিয়ারহাট বাজারের ব্যবসায়ী মিলন মজুমদার বলেন, অটোরিক্সাগুলোর জন্য বাজারে চলাচল করা দু:সাধ্য হয়ে পড়েছে। দোকানের সামনে ও বাজারে যত্রতত্র অটোরিক্সাগুলো রাখে, যার ফলে মানুষের চলাচল বিঘœ হয়। এমন কি যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে পুতিনিয়ত। এই অভিযোগ বাজার কমিটিকে একাধিকবার জানালেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
স্বরূপকাঠির অটোরিক্সা সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা জানান, রিক্সাচালকদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একাধিক সমিতি গঠন করা হযয়েছে। আমার সমিতির হিসেব-নিকেশ সম্পূর্ণ ঠিক আছে। অন্যান্য সমিতির খবর সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে যে টাকাগুলো আমরা উঠাই সে টাকা রিক্সাচালকদের পিছনেই খরচ করা হয়।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, অটোরিক্সা চলাচলের বৈধ কোন অনুমতি নেই। সমগ্র দেশব্যাপী এগুলো যানবাহন হিসেবে চলাচল করে আসছে। অটোরিক্সা চালকদের কাছ থেকে যে টাকা নিচ্ছে সেটা ঠিক কাজ হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial