কলাগাছ কেটে এ কেমন শত্রুতা প্রতিপক্ষের !
জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দু’টি বাগানের ২০০ কলাগাছ কেটে ফেলেছে প্রতিপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের সাগরকান্দা গ্রামে।
ঘটনার খবর ও ছবি আনতে গেলে সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দিয়ে প্রতিপক্ষ আহম্মেদ হোসেন শাহরিয়া বুক ফুলিয়ে নিজেকে বিএনপির ক্যাডার দাবী করে বলে আমার জমির গাছ আমি কেটেছি তাতে কার কি। তবে এ বিষয়ে কলাগাছের মালিক ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান নেছারাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় অভিযোগের সূত্রে জানতে পেরে শনিবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে আনিসুর রহমান জমির পরিচিতি ও মালিকানা কাগজপত্র দেখান। সাগরকান্দা (মৌজার নাম ছাগলকান্দা) গ্রামের শেষ প্রান্তে রামচন্দ্রপুর মৌজার সীমান্তে র ছাগলকান্দা মৌজার ২৪৮ নং দাগে আনিসুর রহমানের রোপিত ২০০টি কলাগাছ বিবাদী আহম্মেদ হোসেন শাহরিয়া কেটে ফেলেছে। সাংবাদিকরা ছবি তুলছিল। এমন সময় সেখানে আহম্মেদ হোসেন শাহরিয়া উপস্থিত হয়ে ছবি তুলতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে বিএনপির ক্যাডার পরিচয় দিয়ে বলেন আমার জমির গাছ আমি কেটেছি তাতে কার কি ? আপনারা ছবি তুলছেন কেন? এসময় বাদী আনিসুর রহমানকেও হুমকি দেন তিনি। এরপর বাদী জমির ম্যাপ (নকসা) ও মালিকানা রেকর্ডের পর্চায় দেখান যে জমির মধ্যে কলাগাছ রোপন করা তার দাগ নম্বর ২৪৮ যা বাদির পিতা তাজেন মল্লিক ও মাতা জোবেদা কাতুনের নামে বিএস ৭৮ নং খতিয়ানে রেকর্ড ভুক্ত। অপর দিকে এর দক্ষিন পশের জমির মালিক বিবাদীর পিতা আমির হোসেন তালুকদারের নামে বিএস ৪৫ নং খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত।
এসময় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আইউব আলী তালুকদার বলেন, এ জমি আনিসুর রহমানের পিতা মাতার নামে রেকর্ডভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ জমি ভোগ দখল করে আসছেন। কলাগাছসহ সব ধরনের গাছপালা আনিসদের লাগানো। শাহরিয়ার জমি এর দক্ষিন পাশের প্লট। যা উভয়ের বিএস রেকর্ডে প্রমান পাবেন।
এসময় আহম্মেদ হোসেন শাহরিয়া তাকে উচ্চবাচ্য কথা বলেন এবং দুই ঘন্টার মধ্যে কাগজপত্র দেখাবেন বলে চলে যান। এরপর ৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও শাহরিয়া কোন কাগজপত্র দেখান নি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এস আই নুরুল আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
