প্রধান সূচি

আবারও কি তুষখালীর শাহজাহান !

ভোলায় মেঘনা থেকে ২২ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

প্রায় ২২ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি ও অন্যান্য পণ্য জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ভোলা দক্ষিণ জোনের একটি টিম। এ ঘটনায় চার আসামির নাম উল্লেখ করে ভোলা সদর মডেল থানায় মামলা করেছে কোস্টগার্ড।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের বিসিজি বেইজে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট এম মমিনুল ইসলাম (স্টাফ অফিসার) এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সোমবার ভোর ৫টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতলির মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে এফবি আবিদ নামে একটি ফিশিং বোট থেকে এসব শাড়ি ও অন্যান্য পণ্য জব্দ করা হয়।
উদ্ধার পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৭ হাজার ৮শ’ ২৪টি ভারতীয় শাড়ি, একশ ৬৬টি থ্রি পিস, মেডিক্যাল সরঞ্জাম ছয় হাজার ৪শ’ ৪২টি। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২১ কোটি ৯০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলা কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন গত সোমবার ভোরে জেলার সদর উপজেলার মেঘনা নদীতে একটি ফিশিং বোটের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় সংকেত দেয়। এরপর বোটের চালক ও পাচারকারীরা চর বৈরাগী এলাকায় বোটটি রেখে পালিয়ে যায়। এ সময় কোস্টগার্ড চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় চার জনের বিরুদ্ধে ভোলা সদর মডেল থানায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশি মালামাল পাচার আইনে একটি মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। আসামিদের বিরুদ্ধে এর আগেও পাচার আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযুক্তরা বগুড়া ও সাতক্ষীরা এলাকার বাসিন্দা। জব্দ মালামাল ভোলা সদর মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে, ভোলার মেঘনা নদী থেকে ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিসসহ অন্যান্য মালামাল জব্দ হওয়ার ঘটনায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তুষখালীর শাহাজাহান হাওলাদারের নাম উঠে আসছে! পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া এলাকায় বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে কানাঘুষাও চলছে। তাহলে কি তুষখালীর সেই নামকরা চোরাচালানী শাহাজাহান আবারও ভারত থেকে শাড়ি-কাপড় চোরাই পথে আনার ব্যবসা আবারও শুরু করে দিয়েছে ? কোস্টগার্ড এর আটক করা অবৈধ মালামাল কি তাহলে সেই শাহাজাহানের ?
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময়ের নামকরা চোরাচালানী মঠবাড়িয়ার তুষখালী এলাকার বাসিন্দা চোরাচালানী শাহাজাহান হাওলাদার অনেক বছর ধরে নাকি এসব ব্যবসা করছেন না। তিনি এখন একজন জনপ্রতিনিধি। ইটের ভাটা, তেলের পাম্পসহ হালাল পথের অন্যান্য ব্যবসা করে চলছেন।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ জানান, ‘চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী’, তেমনি কাঁচা টাকা আয়ের মাধ্যম চোরাচালানী’র ব্যবসা কি আর ছেড়ে দিতে পেড়েছে শাহাজাহান হাওলাদার।
এ বিষয়ে শাহাজাহান হাওলাদারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি এখন আর ওই সব চোরাচালানীর কাজ করেন না। তবে মেঘনা নদী থেক আটককৃত মালামাল ক্যারিং করার দায়িত্বে রয়েছে সাতক্ষিরা জেলার জনৈক মন্টু মিয়া বলে তিনি জানান। আর মালামালগুলো ঢাকার কোন পার্টির বলেও তিনি জানান।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial