প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে শত কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে বোনদের বঞ্চিত করার অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নে পিতার রেখে যাওয়া শত কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে বোনদের বঞ্চিত করতে একের পর এক মামলা ও জিডি করে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত হাশেম আলী মিয়ার পরিবারে। এ নিয়ে হাশেম আলী মিয়ার ৬ মেয়ে সাবেক সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের কাছে ধর্ণা দিয়ে যাচ্ছেন।
সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলম, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে মিমাংসায় বসলেও তার তোয়াক্কা না করে বোনদের বিরুদ্ধে মামলা ও জিডি করে হয়রানি করে চলছেন ভাই রাজ্জাক মিয়া।
হাসেম আলী মিয়ার মেয়েদের দাবি, তারা মামলা মোকদ্দমা থেকে মুক্তি পাওয়াসহ পৈত্রিক ওয়ারিশ অনুযায়ী পিতার সম্পত্তি বুঝে পেতে সমাজপতিদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
হাসেম আলী মেয়ে সালমা বেগম, শাহানা বেগম অভিযোগ করেন, তার বাবা জীবিত থাকাকালে নিজ জমি জমাসহ উপজেলার ইন্দেরহাট বন্দরে আনুমানিক ৫০/৬০ কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে যান। বাবা জীবত থাকাকালীন তার মা পরলোক গমন করেন। তাই পিতার একাকিত্ব ঘোচাতে তাকে নতুন করে বিবাহ করান। এসময় কৌশলে তাদের ভাই রাজ্জাক মিয়া পিতাকে অসুস্থ সাজিয়ে যাতে কেউ তার সম্পত্তি নিতে পারে সে মর্মে স্বরূপকাঠি সাব-রেজিষ্ট্রার বরাবর একটি আবেদন জমা দেন। সেমতে চলতে থাকলেও পরে আমাদের সাথে প্রতারণা করে রাজ্জাক মিয়া পিতার বেশ কিছু সম্পত্তি লিখে নেন। বিষয়টি টের পেয়ে রাজ্জাক মিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে মামলার ভয় দেখান। পরে কৌশলে রাজ্জাক মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া তার নিজ নামে পিতার সম্পত্তি ওছিয়তনামা দলিল করে নেয়। পরে পিতার মৃত্যুর পর বাড়ী গিয়ে বাবার সম্পত্তি বুজে চাইলে ভাই রাজ্জাক মিয়া আমাদের খুন জখমের হুমকি দেয়। আমাদের ভাই রাজ্জাক মিয়া আমাদের স্বামী সন্তানদের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা দেন। এরপরও তিনি ক্ষান্ত না হয়ে থানায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছেন।
অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, বাবা জীবিত থাকতে বোনেরা আসতো না। তাই তিনি আমাকে কিছু জমি লিখে দিয়ে আমার ছেলে রাজুকে ওছিয়ত দলিল দিয়ে গেছেন। এছাড়া অবশিষ্ট কিছু সম্পত্তি আছে। তিনি আরো বলেন, আমার বোনেরা আমাকে অপদস্ত করে চলছে। তাই আমি তার প্রতিকারস্বরূপ মামলা দিয়েছি।
সোহাগদল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামীম বাহাদুর বলেন, হাসেম আলী মিয়ার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মিয়া ও তার ছেলে রাজু মিয়া প্রতারণা করে হাসেম আলীর সম্পত্তি থেকে কন্যাদের বঞ্চিত করে সম্পত্তিগুলো কবজা করেছে। এ নিয়ে একাধিকবার বৈঠকে বসলেও রাজ্জাক নিয়া কোন শালিস মানছেন না। তার অঘাত টাকার কাছে বোনরা পরাজিত হচ্ছে।
নেছারাবাদ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, হাসেম আলী মিয়ার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। তিনি জীবত থাকাকালে স্ত্রী মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিবাহ করেছিল। সেই বিবাহ করার কারণে মেয়েরা তেমন যোগাযোগ রাখতো না। সে সুযোগে তার নাতি মো. রাজু, দাদার কাছ থেকে সৎ দাদীর সাহায্য নিয়ে নিজ নামে সম্পত্তি ওছিয়ত করে নিয়েছে।
তিনি বলেন, আমার জানামতে, উক্ত ওছিয়তের কোন ভিত্তি নেই। কারণ হাসেম আলী নাতী রাজুকে সম্পত্তিগুলো ওছিয়ত করে গেলে অবশ্যই তার কোন না কোন মেয়ের স্বাক্ষী ইসাদি পরিচিতির দরকার ছিল।
সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলম জানান, রাজ্জাক খুবই খারাপ লোক। বিষয়টি নিয়ে আমরা সমাধানে বসেছিলাম। শালিসে আমরা হাসেম আলীর ৬ মেয়েকে তার একটা ওয়ারিশ দিতে বলেছিলাম। তখন রাজ্জাক মিয়া রাজি হলেও পরে তা মেনে নেয়নি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial