একবছর আগে ঝড়ে গাছ ভেঙ্গে পড়ে আছে
কচুয়া বারুইখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি দেখার কেউ নেই
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কচুয়া সদর ইউনিয়নের ২নং বারুইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির উপর গত প্রায় একবছর পূর্বে ঝড়ে গাছ পড়ে ভবনটি ধ্বসে যাওয়ায় শ্রেনী কক্ষ, শিক্ষক, বিশুদ্ধ পানি ও উপযুক্ত টয়লেটের অভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।
প্রায় একবছর ধরে শিক্ষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন বিপর্যস্ত ভবনের বারান্দায়। জানা যায়, স্থানীয় সম্ভ্রান্ত সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রচেস্টায় গত ১৯১৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় শতাধিক ছাত্র ছাত্রীর বিদ্যালয়ের ভবনটি ভেঙ্গে বিপর্যস্ত হওয়ার কারনে বিপর্যস্ত ভবনে শ্রেনী কক্ষের অভাব, বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষকের অভাব ও উপযুক্ত টয়লেটের অভাবে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মোট ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩ জন শিক্ষকই বিভিন্নভাবে ছুটিতে আছেন। কেউ আছেন পিটিআই টের্নিং এ, কেউ ঢাকায় এমএড করছেন আবার কেউ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। ২ জন নিয়মিত শিক্ষক ও ২ জন ডেপুটিশন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের ৫ টি শ্রেনীতে প্রায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীকে পড়ানো সম্ভব নয়। বিশদ্ধ খাবার পানির অভাবে প্রায়ই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পেটের পীড়া জাতীয় বিভিন œরোগ-বালাই লেগেই থাকে, এছাড়া বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র- ছাত্রী সকলে মিলে ১টি মাত্র ভাঙ্গা টয়লেট ব্যাবহার করায় তা প্রায়ই অপরিস্কার থাকে। বিদ্যালয়ের ভবন ভাংগার ফলে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেনীর ছাত্র- ছাত্রীদের স্কুলের পাশে পুজা মন্ডপের ঘরে নিয়ে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এভাবে নানাবিদ সমস্যার কারনে এক সময়কার কচুয়া উপজেলার ১টি প্রসিদ্ধ স্কুল আজ ধংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা খানম জানান, আজ থেকে ৯/১০ মাস পূর্বে ঝড়ে বিদ্যালয়ের উপর ১টি গাছ পড়ে বিদ্যালয়ের ভবনটি সম্পুর্ন ভেঙ্গে পরে আছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একদিন এসে দেখেন নি যে, গাছটি আসলে কিভাবে বিদ্যালয়ের ভবনের উপর পড়ছে এবং এখন কি অবস্থায় আছে।
তবে শিক্ষা কর্মকর্তা জানান যে, আমি শীগ্রই গাছটি নিলাম দিয়ে দিব, প্রসেসিং চলছে।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসমিন ফারহানা জানান, রাস্তার যে গাছটি এই স্কুলের ভবনের উপর পড়েছে সে গাছটি মুলতঃ জেলা পরিষদের, আমরা জেলা পরিষদকে বলেছি, ওনারা খুব শীগ্রই এসে গাছটি সরিয়ে নিয়ে যাবে।
অত্র এলাকার ছাত্র-ছাত্রী, গার্ডিয়ান ও এলাকাবাসীর দাবী বিদ্যালয়টির ভবনের উপর থেকে গাছটি সরিয়ে ভবনের মেরামতসহ সকল সমস্যা যাতে দ্রুত সমাধান করে আবার ও উপজেলার প্রসিদ্ধ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা যায় তার জন্য উর্ধ্বাতন কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
