চলছে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম
উপকুলে চাষের মাছেই ভরষা
অহিদুল ইসলাম ইন্দুরকানী বাজারের একজন পাইকারি মাছ বিক্রেতা। শনিবার দুপুরে মাছের বাজারে মাছের ঝুড়ি সামনে নিয়ে তার চৌকিতে বসে ঘুমাচ্ছিলেন। এসময় বাজার ছিল প্রায় ক্রেতা শূণ্য। অপর দিকে আর এক মাছ বিক্রেতা জালাল উদ্দিন তার ঝুড়িতে থাকা চাষের তেলাপিয়া মাছ কেনার জন্য একজনকে খুব অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু চাষের মাছ হওয়ায় ক্রেতা জাকির হোসেন না কিনেই চলে গেলেন। এমন চিত্র পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার প্রায় সকল বাজারের।
কারণ চলছে ইলিশের প্রজনন মৌসুম। তাই ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ প্রজনন এলাকা গুলোতে নদী সাগরে মাছ শিকার বন্ধ। ফলে উপকুলীয় এলাকায় বর্তমানে চাষের মাছই একমাত্র ভরষা। বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা যায় চাষের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ও কই মাছ নিয়ে বসে আছে মাছ বিক্রেতারা। চলতি অবরোধ শেষে তাদের ঝুড়িতেই শোভা পাবে সাগর ও নদীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। যা ভোজন রশিকদের চাহিদা পূরণে রক্ষম হবে। পূরণ হবে সাধারণ ক্রেতাদেরও খাদ্য চাহিদা ও আমিষের অভাব।
ইন্দুরকানী বাজারের মাছ বিক্রেতা জালাল উদ্দিন জানান, অবরোধের লইগ্যা (জন্য) সাগরে আর গাঙ্গে (নদীতে) মাছ ধরা বন্ধ। জাইল্লারা (জেলেরা) বেকার। হেইর লইগ্যা খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা দিয়া চাষের মাছ আইন্না বেচাকেনা চালাই। গাহেক (ক্রেতা) কম। তয় অবরোধ কিন্তু মোগো সবাইর লইগ্গাই ভাল। জাইল্লারা বেশি মাছ পাইলে মোরা বেশি মাছ বেচতে পারমু। হে সময় দামও কিছু কম থাকপে। গাহেকও বেশি পাওয়া যাইবে।
অপর এক মাছ বিক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, গাহেকে চাষের মাছ খাইতে চায় না। আবার এই কয় দিন না খাইয়াও উপায় নাই। বইয়া বইয়াই দিন যায়। হেইর পিন্নে (সে জন্য) চাষের মাছ বেচি।
ইন্দুরকানীর এক ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম চাষের তেলাপিয়া কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা মাছে ভাতে বাঙ্গালী। মাছ ছাড়া এক বেলাও ভাত খাওয়া চলে না। তাই বাধ্য হয়েই চাষের মাছ কিনতে হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে অনেক বেশি মাছ বাজারে উঠবে বলে আশা করা যায়।
ইন্দুরকানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ বলেন, নদী জেলে শূন্য ফলে মাছের বাজারে এর প্রভাব পড়াটা স্বাভাবিক। তাই চাষের মাছ বিক্রি হচ্ছে বাজারে। নিষেধাজ্ঞার প্রথম ৫ দিনে আমরা ৩০ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দিয়েছি। বর্তমানে জেলেদের বিভিন্ন ভাবে প্রেরণা যোগাচ্ছি। যাতে তারা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকে। এছাড়া তারাই যাতে নদীতে মাছ ধরা বন্ধে সহযোগিতা করে।
