প্রধান সূচি

জীবনের পথে অগ্রসর হওয়ায়, সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে বিপুল পরিমানে ছেলে/ মেয়েরা আত্মহত্যা করেন।

ইফেক্ট ১ এসএসসি, ইফেক্ট ২ এইচএসসি, ইফেক্ট ৩ ফেব্রুয়ারি মাসের বিভিন্ন দিবস  (২১ ফেব্রুয়ারী না), ইফেক্ট ৪ মানসিক হতাশা (প্রেম, আর্থিক সংকট) ।

যারা আত্মহত্যা করে তারা বুঝতে পারেনা যে দুই দিন হা হুতাস করার পর তাকে কেউ মনে রাখবেনা।

আইন :

আইনের জগতে একটি সরল ধাঁধার বহুল প্রচলন দেখা যায়।

ধাঁধাটি হল, বলুনতো এমন কোন অপরাধ আছে যাহা করিলে শাস্তি হয় না কিন্তু করিবার উদ্যোগ করিলে শাস্তি হয়! ধাঁধার উত্তরটি অনেকেরই জানা আবার অনেকেই হয়তো জানা নেই।

এর সহজ উত্তর “আত্মহত্যা”। পেনাল কোডের  ৩০৯ ধারায় এই শাস্তির কথা বলা আছে।

মূলতঃ এই অপরাধটি সম্পূর্ণ হলে যে অপরাধী সে সকল আইন এবং পৃথিবীর সকল শাস্তির উর্ধ্বে চলে যান। অর্থাৎ যিনি আত্মহত্যা সম্পন্ন করেন তাকে পৃথিবীতে শাস্তি দেওয়া যায় না। কিন্তু যিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করিয়া সফল হতে পারেন না, তাকে শাস্তি প্রদান করিয়া পৃথিবীতে এ ধরনের কাজকে নিরুৎসাহিত করা হয়। আপনার জীবন আপনার নিকট যেমন মূল্যবান কিম্বা আপনার কোন কোন ভ্রান্ত ধারনায় মূল্য না থাকুক অন্যদের নিকট তাহা অতি মূল্যবান।

কবির ভাষায় বলতে গেলে “মানব জীবন সার, এমন পাবে না আর”।

আত্মহত্যা কি?

পৃথিবীর সুন্দর সব কিছুকে ফেলে স্বেচ্ছায় নিজ জীবনাবসানের নাম আত্মহত্যা। আত্মহত্যা মানে নিজেকে নিজে খুন করা। কোন প্রাণী নিজের জীবন নিজেই শেষ করা বা নিজ জীবন হত্যা করাকে আমরা আত্মহত্যা বলে থাকি। অনেকের মতে নিজ আত্মাকে হত্যা করার নামান্তর আত্মহত্যা!

আইনি সিস্টেম :

আমি নিজেই আত্মহত্যা করা ইউ/ডি কেস এর লাসের inquest (সুরতহাল) রিপোর্ট করেছি ২২ এর অধীক।

আমার সাধারন মনের ধারনা :

মানুষ অতিরিক্ত রাগের বা আবেগের অথবা না পাওয়ার কস্ট থেকেই আত্ম হত্যা করে থাকে বলে আমার মনে হয়।

জীবনের সব চেয়ে মারতœক ভুল এ সিদ্ধান্ত নেয় খুব ই অল্প সময়ের মধ্যে! যাই হোক সুরতহাল রিপোর্ট লিখার সময় কিছু লাশের অবস্থা দেখে আমার ছোট চিন্তাধারায় যা বুঝতে পেরেছি তা হল :

মরার ঠিক আগের টাইমেই! আত্মঘাতক আবার বাচতে চায়। কিন্তু তখন আর বেচে থাকার টাইম থাকেনা।

যেসব লাশ গুলি গলায় ফাস লাগিয়ে আতœহত্যা করে তারা মরার ঠিক আগ মুহুতে কিছু ধরতে চায় বা ধরে বেচে থাকার চেস্টা করে । কারন কস্ট টা এত কঠিন যে! সে আর মরতে চায়না!! ভুল টা বুঝতে পারে কিন্তু লাভ হয়না!!

ময়না তদন্তের নিয়ম :

যে স্থান বা গৃহে ময়না তদন্ত করা হয় সেই গৃহকে প্রচলিত ভাবে ‘লাশ কাটা ঘর’ বলে। প্রথমে মৃতদেহকে এই লাশকাটা ঘরে নিয়ে আসা হয়। এরপর যে ডাক্তার লাশ ময়না তদন্ত করবেন তিনি ময়না তদন্তের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি পরীক্ষা করেন এরপর তিনি সুরতহাল রিপোর্ট পরীক্ষা করেন। ময়না তদন্তের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদির মধ্যে থাকে সুরতহাল রিপোর্ট, সংশ্লিষ্ট থানার চালান, নির্ধারিত ময়না তদন্ত রিপোর্ট ফরম ইত্যাদি। কাগজ পত্রাদি পরীক্ষা করার পর ডাক্তার বাহ্যিক ভাবে মৃতদেহকে পরীক্ষা করেন। বাহ্যিক পরীক্ষা শেষ করার পরই শুরু করা হয় আসল কাজ।

ভয়ংকর :

এ পর্যায়ে মৃতদেহকে ব্যবচ্ছেদ করা হয়। মৃতদেহ যিনি ব্যবচ্ছেদ করেন তাকে ‘ডোম’ বলা হয়ে থাকে।

ব্যবচ্ছেদ করার সময় মৃত দেহের গলা থেকে নাভির নিচ পর্যন্ত চিরে ফেলা হয় এবং মাথার করোটি খুলে ফেলা হয়। মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করার পর তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো যেমন স্টমাক, কিডনি, হার্ট, লাঞ্চ, লিভার, ব্রেইন ইত্যাদি বাহির করে লবণ পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এরপর এই অঙ্গগুলো ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে পুনরায় মৃতদেহের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং পরিশেষে মৃতদেহের শরীর সেলাই করে দেয়া হয়।

কোনও মানুষের অপমৃত্যু হলেই তাকে দাফনের আগে তার পোস্টমর্টেম করা হয়। দেহের যে কোনও অঙ্গের পোস্টমর্টেম হতে পারে। এমনকি থেঁতলানো বা ম-ে পরিণত দেহাবশেষের, নরকঙ্কাল, একটি একক হাড়, দেহ বিচ্যুত যে কোনও অঙ্গ, এমনকি একটি আঙ্গুলেরও ময়নাতদন্ত হতে পারে। লাশ পচা বা-গলিত হলেও তার পোস্টমর্টেম হতে পারে।

ডোম :

যার সাথে আপনি জীবনে কথাই বলেন নি।

সে আপনার পুরা শরীর দেখবে!  ঠিক মরা গরু ছাগলের  মত এদিক সেদিক নাড়বে-কাটবে-ছিড়বে।

ইসলাম কি বলে?

মহান আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন, “আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। এবং যে কেউ জুলুম করে, অন্যায়ভাবে উহা (আত্মহত্যা) করবে, অবশ্য আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো, আল্লাহর পক্ষে উহা সহজসাধ্য।” (সূরা-নিসা-২৯-৩০)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর বানী :

ক) সাহাবা আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে।

খ) যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে সেও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐভাবে নিজ হাতে বিষপান করতে থাকবে।

গ) যে কোন ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে তার কাছে জাহান্নামে সে ধারালো অস্ত্র থাকবে যার দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে।

ঘ) রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে দোজখে অনুরূপভাবে নিজ হাতে ফাঁসির শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। আর যে বর্শা ইত্যাদির আঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করে- দোজখেও সে সেভাবে নিজেকে শাস্তি দেবে।

ঙ) হযরত জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের পূর্বেকার এক লোক আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। তাই সে একখানা চাকু দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। এর পর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম

হিন্দু ধর্ম কি বলে :

ঈশ উপনিষদে আত্মহত্যার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। সাবধান করে বলা হয়েছে যে আত্মহত্যাকারী মৃত্যুর পর আনন্দহীন লোকে গমন করে। “অনন্দা নাম তে লোকা অন্ধেন তমসাবতাঃ। তাংস্তে প্রেত্যাভিগচ্ছন্তি যে কে চাত্মহনো জনাঃ” (ঈশ উপনিষদ, ৩নং)

আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা হয়?

বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন। শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য বা বন্ধু কিংবা সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে অনেকটা আশ্বস্ত হওয়া যায়।

  • একজন বিফ্রেন্ডারের সঙ্গে কথা বলুন। কয়েকজন পরিবার বা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে পারে না। কয়েকজনের অচেনা লোকের সঙ্গ কথা বলা সহজ মনে হয়।
  • ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। যদি কেউ দীর্ঘসময় যাবত বিষণ্নতাবোধে করে বা আত্মহত্যার ইচ্ছা থাকে সে হয়ত নিদানিক বিষণ্নতাবোধে ভুগছে। এটা এক চিকিৎসা গত পরিস্থিতি, ভারসাম্য হারানোর ফলে এমন হয় এবং ওষুধের প্রেসক্রিপশন এবং থেরাপির সুপারিশ করে ডাক্তার এর চিকিৎসা করতে পারেন।

জীবনের পথে ‘অগ্রসর হওয়ায়’, সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

facebook.com/cops.sayeed

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial