প্রধান সূচি

পাইকগাছায় মিনহাজ নদী নিয়ে আবারও মামলা

জনপ্রতিনিধি ও কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের আসামী করার অভিযোগ

পাইকগাছা প্রতিনিধি :

পাইকগাছার আলোচিত মিনহাজ নদী নিয়ে আবারও আদালতে মামলা হয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গত ৬ মে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রব গংদের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন পাতড়াবুনিয়া গ্রামের মৃত জহির উদ্দীন গাইনের ছেলে মাইদুল ইসলাম গাইন। মামলায় জনপ্রতিনিধি ও কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিককে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে সর্বশেষ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে এ মামলায় কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদেরকে আসামী করায় মিশ্র প্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে।

উল্লেখ্য, উপজেলার গড়ইখালী, চাঁদখালী ও লস্কর ইউনিয়নে অবস্থানরত ২৫১ একর আয়তনের মিনহাজ নদী (বদ্ধ জলমহল) জেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় পূর্বগজালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনুকূলে ইজারা প্রদান করা হয়। পরে রক্ষনাবেক্ষনের নামে স্থানীয় ব্যক্তিদের নিকট মৎস্যজীবী সমিতি পাওয়ার নামা করে দিলে নদীর দখল ও কর্তৃত্ব নিয়ে স্থানীয় আইনজীবী আমিরপুর গ্রামের মাহমুদ আলী গাজীর ছেলে এবিএম এনামুল হক গংদের সাথে সেনা সদস্য আব্দুর রব গংদের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়। দখল কর্তৃত্ব নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে হামলা-মামালা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত ৯ মে থেকে নদী এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। যা এখনো বলবৎ রয়েছে। এদিকে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন গত ৩ জুন মিনহাজ নদীর অবৈধ নেট-পাটা অপসারণ কাজ শুরু করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল হাসানের নেতৃত্বে এদিন নদীর কয়েকটি স্থানের নেট-পাটা অপসারণ করা হয়। প্রশাসনের জন গুরুত্বপূর্ণ এ উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে নেট-পাটা অপসারণের দিন ঘটনা উল্লেখ করে আব্দুর রব গংদের পক্ষ থেকে মাইদুল ইসলাম গাইন বাদী হয়ে ঘেরের বাসায় অবৈধ প্রবেশ, মারপিট, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে জনপ্রতিনিধি ও কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকসহ ২৪ জনকে আসামী করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। যার নং- সিআর ৩৪২/১৭, তাং- ০৬/০৬/১৭ ইং। মামলাটি তদন্ত করার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কমপক্ষে ১৬ থেকে ১৭টি মামলা হয়েছে। তবে সর্বশেষ মামলায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে নিরিহ মানুষকে আসামী করা হয়েছে বলে মামলার ২৪ নং আসামী সুলতানা পারভীন ও  জনপ্রতিনিধি ইয়াসিন গাইন অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল হাসান জানান, মামলায় যদি কর্মসৃজন প্রকল্পের কোন শ্রমিককে আসামী করা হয় সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial