প্রধান সূচি

ইন্দুরকানীতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের ভাতা কেটে রাখায় ক্ষোভ

ইন্দুরকানী প্রতিনিধি :

ইন্দুরকানী উপজেলা রির্সোস সেন্টারে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিটি প্রশিক্ষনের ভাতা থেকে টাকা কাটায় প্রশিক্ষনার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া একই শিক্ষককে এখাধিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাইয়ে দেয়া ও কতক শিক্ষককে কোন প্রশিক্ষন না দেয়ায় ও শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জানা গেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ণ কর্মসূচীর অর্থায়নে শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ই বেশি অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও লিডারশীপ, প্রাক-প্রাথমিক, ইনডাকসন, টিএসএন-সহ নানা প্রশিক্ষণ বছরের প্রায় সব সময় ধরেই অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ইন্সট্রাক্টর না থাকায় ভান্ডারিয়ার ইন্সট্রাক্টর মোঃ ইব্রাহীম খান কে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি নিজ উপজেলার দায়িত্ব পালনের পর যতটুকু পারেন এখানে আসেন, মূলত এখানকার অফিস সহকারী মোঃ ইদ্রিস আলী নিজেকে অঘোষিত কর্মকর্তা মনে করে সকল কাজ তার নিজের মত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। প্রশিক্ষণে ব্যাচ তৈরী করে ডেপুটেশন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসারের থাকলেও ইদ্রিস আলী নিজে তালিকা তৈরী করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর এনে পুনরায় অনেক নাম কেটে নিজের সুবিধামত শিক্ষককে ফোন করে প্রশিক্ষনে আনেন। এ নিয়ে কম প্রশিক্ষণ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে পাচ্ছে সে একাধিক প্রশিক্ষণ পাচ্ছে, যে না পাচ্ছে সে মোট ১ বা ২ টি প্রশিক্ষণ পাচ্ছে।

এছাড়া প্রতিটি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষানার্থীদের নিকট থেকে টাকা কেটে রাখার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণে ৬৩০ টাকা হারে ৬ দিনে ৩৭৮০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও  প্রত্যেককে  ৩৩০০ টাকা দেন। এর প্রতিবাদ করলে তাকে আর প্রশিক্ষণ দেয়া হবেনা বলে শাষিয়ে দেন। নাস্তার জন্য ১৮০ টাকা বরাদ্দ থাকলে ও জোর করে সিঙ্গারা ও চা খাইয়ে নাস্তার টাকা কেটে রাখেন। প্রত্যেকের জন্য ৫০০ টাকার ১ টি ব্যাগ বরাদ্দ থাকলেও নূণ্যতম মানের ১ টি ব্যাগ তারা সরবরাহ করে থাকেন, যার বাজার মূল্য ২০০ টাকার বেশি নয়। সম্প্রতি নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ৭ দিনের ইনডাকশন ট্রেনিং শেষে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৪১০ টাকার পরিবর্তে ৪২০০ টাকা প্রদান করেন। উপজেলার উত্তর ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শাহনাজ পারভিন সহ একাধিক শিক্ষক জানান, আমাদের ৪ হাজার ৪শ টাকার পরিবর্তে ৪ হাজার ২শ টাকা অফিস সহকারি ইদ্রিস আলী দিয়েছেন। তবে ২শ টাকা কেন কেটে রেখেছেন তা বলেননি। টাকা কেটে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারি ইদ্রিস আলী এ বিষয়ে তথ্য না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান ও তার কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহীম খান সব  জানেন, তাই তার সাথে কথা বলতে বলেন।

ইন্দুরকানী উপজেলা রির্সোস সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোঃ ইব্রাহীম খান জানান  প্রশিক্ষনার্থীদের সনদ দেয়া, উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের ও অডিটে খরচ থাকায় কিছু টাকা কেটে রাখা হয়। বিষয়টি নীতিশুদ্ধ কিনা এটা জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial