সংবাদ প্রকাশের ২ বছর পর
চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে স্বপ্নের ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ
অবশেষে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিত্রা নদীরপাড়ে মিনি সুন্দরবনে স্বপ্নের ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শীঘ্রই শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণসহ বনভূমি রক্ষার আশ্বাস দিলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রবিবার সকাল ১০টায় বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ সাইদুল ইসলাম ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীমসহ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও মিডিয়াকর্মীরা এলাকাটি ঘুরে দেখেন। এ সময় শিশুদের বিনোদনের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি ইকোপার্ক নির্মানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বিভিন্ন পত্রিকায় ‘চিত্রার চরে আরেক সুন্দরবন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বনবিভাগ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের নজরে আসে। এরপর থেকে এলাকাবাসি শিশুদের জন্য একটি ইকোপার্ক নির্মাাণসহ বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। গত ২ বছর পর অবশেষে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে স্বপ্নের ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ।
রবিবার সকাল ১০টায় বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ সাইদুল ইসলাম ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীম, সামাজিক বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা চিন্ময় মধু, স্থানীয় ইউপি সদস্য পরিতোষ মন্ডল, সাংবাদিক শেখর ভক্তসহ এলাকার সুশীল সমাজের নের্তৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় শিশুদের বিনোদনের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি ইকোপার্ক নির্মানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিভিন্ন অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুন্দরবনের মূল ভূখন্ড থেকে প্রায় শত কিলোমিটার উত্তরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া চিত্রানদীর দু’পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়েছে সুন্দরী, কেওড়া, গরান, ওড়া এবং গোলপতাসহ সুন্দরবনের নানা প্রজাতির গাছপালা। আর এসব গাছপালা জন্ম নেওয়ার কারণে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এখানকার নদীপাড়ের রায়গ্রাম, শুড়িগাতী, খিলিগাতী, ডুমুরিয়া,আরুলিয়া, খড়িয়াসহ আশপাশের প্রায় ১০-১৫ টি গ্রাম এখন বনাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিলুপ্ত প্রজাতির অনেক প্রাণীর দেখা মেলে এ বনে। বনবিড়াল, মেছোবাঘ, খাটাশ এবং কুমির আকৃতির বড় গুইসাপের উপস্থিতি এখানে চোখে পড়ার মত। এছাড়া এখানকার গাছ-পালায় ঘুঘু, শালিক, দোয়েল, বাঁদুর, বক, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির হাজার-হাজার পাখি এসে আশ্রয় নিয়েছে। পাশাপাশি শীত মৌসুমে অনেক পরিযায়ী পাখি এখানে আশ্রয় নেয়।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ সাইদুল ইসলাম ইকোপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জানান, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় ইউএনও, পানিউন্নয়নবোর্ড এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিরা সহযোগীতা করলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। যতদ্রুত জায়গা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে ততটা দ্রুত কাজ শুরু হবে। এ ব্যাপারে সব ধরণের প্রস্তুতি হাতে নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে ইকোপার্ক নির্মাণসহ বনভূমি রক্ষার আশ্বাস দেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীম জানান, এলাকায় শিশুদের বিনোদনের তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে একটি ইকোপার্ক নির্মাণ করা প্রয়োজন। বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুত এটি নির্মাণের জন্য কাজ করা হবে।
