প্রধান সূচি

সরকারি তৎপরতায় দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

মাসুদ সাঈদীর চেষ্টায় জিয়ানগরের নিখোঁজ প্রবাসীর সন্ধান

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর চেষ্টায় প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ থাকা জিয়ানগর উপজেলার প্রবাসী জিয়াউল হকের সন্ধান মিলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারানো এই প্রবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে দুবাইয়ে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন জিয়াউল হক। একপর্যায়ে তিনি বাকশক্তি হারান এবং বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের ফলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় এক বছর ধরে কোনো খোঁজ না পেয়ে উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি।
‎সম্প্রতি জিয়াউল হকের স্ত্রী ও সন্তান পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর কাছে সহায়তা চান। বিষয়টি জানার পরপরই তিনি দ্রæত উদ্যোগ নেন। পরিবারের দেওয়া ছবি ও পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে দুবাইয়ে নিজস্ব যোগাযোগের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু করেন। একাধিক হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পর অবশেষে একটি হাসপাতালে জিয়াউলের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
‎পরে ওই দিন রাতেই মাসুদ সাঈদীর উদ্যোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে জিয়াউল হকের যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। এ সময় সন্তানের ‘আব্বু, আব্বু’ ডাকে নির্বাক জিয়াউল কোনো উত্তর দিতে না পারলেও অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। এসময় জিয়াউল হককে দ্রæতই দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশ্বস্ত করেন তার পরিবারকে মাসুদ সাঈদী।
‎উপজেলার চন্ডিপুরের চরবলেশ্বর গ্রামের জিয়াউল হককে দ্রæত দেশে ফিরিয়ে আনতে গত ১৬ এপ্রিল দুবাইয়ে অবস্থিত কনস্যুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে প্রথম সচিব শাহানাজ পারভীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। এতে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রæত দেশে ফিরিয়ে এনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
‎চিঠিতে তাকে স্ট্রেচার, নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তাসহ বিমানে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ হাজার দিরহাম (১০ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা) ব্যয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।
‎এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এখন তাকে দ্রæত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করি অল্প দিনের মধ্যেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের যে কোনো সংকটে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।
‎জিয়াউল হকের স্ত্রী শামসুন্নাহার রুনা জানান, এমপি মাসুদ সাঈদীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর স্বামীর সন্ধান পেয়ে আমরা আনন্দিত। এমপি সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি না হলে আমার স্বামী বেঁচে আছেন, না মরে গেছেন তা-ই জানতে পারতাম না। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি, তিনি কবে দেশে ফিরে আসবেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial