বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙানোর ঘটনায় সেই প্রধান শিক্ষিকাকে দুর্ব্যবহারের বরখাস্ত
পিরোজপুরের নেছারাবাদে (স্বরূপকাঠী) বিদ্যালয়ের দেয়ালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙিয়ে আলোচনায় আসা সোনারগোপ রমেশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই প্রধান শিক্ষিকা শামিমা ইয়াছমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে, দেয়ালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানো নয়, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে র্দুব্যবহার করার কারনে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এ প্রতিনিধির সাথে পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল এ কথা বলেছেন।
গত সোমবার রাতে পিরোজপুর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে ওই শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেয়া হয়। বরখাস্ত হওয়া ওই প্রধান শিক্ষিকা শামিমা ইয়াছমিন বলেছেন, আমার অপরাধ সম্পর্কে আমি অবগত নই।
বরখাস্ত হওয়া ওই প্রধান শিক্ষিকা শামিমা ইয়াছমিন বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবি উঠেছে। ছবি নামানোর জন্য নতুন কোন প্রজ্ঞাপনের কপি বা উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কোন নির্দেশনা আসলে ছবি নামিয়ে ফেলতাম। পরে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার ফোন পেয়ে ওই ছবি নামিয়ে ফেলেছি। ৫ আগস্টের পর থেকে ছবি সরানোর কোন নির্দেশনা আসেনি বিধায় ছবি নামাইনি। এখন বুধবার দুপুরে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আমাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি হাতে দেয়া হয়েছে। বরখাস্তের চিঠিতে অপরাধের কি কারন লেখা আছে জানতে চাইলে ওই শিক্ষিকা আরো বলেন, চাকরিবিধি না মেনে অসাধ আচনের কারনে চাকরি থেকে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ আছে। পরে ওই বরখাস্তের চিঠি দেখতে চাইলে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকার স্বামী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা লোকাল প্রশাসন ক্ষেপাতে চাইনা। দেখি ভালয় ভালয় সমাধানে আসতে পারিনা কিনা। যদি না পারি তাহলে সাংবাদিকদের বিষয়টা জানাব।
নেছারাবাদ উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন বলেন, বিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামানোর জন্য চিঠি আকারে কোন নির্দেশনা দেয়নি। তবে, ভিতরে ভিতরে আমাদের ছবি নামানোর জন্য একটা নির্দেশনা ছিল। আমি আমার ক্লাস্টারের সবাইকে ছবি নামাতে বলেছিলাম। ওই শিক্ষিকা কেন নামায়নি আমি বুঝিনা। তাহলে ছবি না সরানোর অপরাধেই কি ওই প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে; এমন প্রশ্ন করে পুনরায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিঠিতে কি লেখা আছে আমি জানিনা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দোকার জসিম আহমেদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তা মো. মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল বলেন, ছবি টাঙানোর জন্য নয়, বিদ্যালয়ের অভিভাবক এবং এলাকার মানুষের সাথে র্দুব্যবহার করার কারনে ওই শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মোটকথা সবার সাথে অসাধআচরনের কারনে তাকে ওই সাজা দেয়া হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার জন্য তদন্ত চলছে। তাহলে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙিয়ে পত্রপত্রিকায় আলোচনা আসার পরেই কেন তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা এমন প্রশ্ন করে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রধান শিক্ষিকা শামিমা ইয়াছমিনের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই অনেক অভিযোগ শুনছি। বুজছিলাম সে নিজে থেকে শুধরে যাবে। শুধরায় নি।
