ইন্দুরকানীর চর গাজীপুর গ্রামে পিটিয়ে ও কুপিয়ে তিনজনকে জখম
পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের চরগাজীপুর গ্রামে অতর্কিত হামলায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে তিনজনকে আহত করা হয়েছে। আহতরা হলেন- হাসান খান (৬৫), বেলায়েত (৫২) এবং এনায়েত(৫০)। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজন পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার পিরোজপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা জানান, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় চর গাজীপুর গোড়াখাল নামক স্থানে তিনরাস্তার মোড় (ফোরকানের দোকানের সামনে) স্থানীয় ইলিয়াস মেম্বারের ঘনিষ্ট আ. রহিম খান, মাহাবুব, মামুন, সফিক, ফেরদৌস, সাত্তার ও রফিকুলসহ জিআই পাইপ ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং পদধারী এমনটাই জানিয়েছেন আহতদের আত্মীয় স্বজনরা। বর্তমানে আহতদের আত্মীয় স্বজনদের ও হুমকি দেয়া হচ্ছে।
শনিবার সকালে স্থানীয় ইলিয়াস মেম্বার আহতদের হাসপাতালে দেখতে গেলে উপস্থিত স্থানীয়রা তাকে এ ঘটনার জন্য দোষারোপ করে এবং তখন সেখানে উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃর্ষ্টি হয়।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ইলিয়াস মেম্বারকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এ কথা বলে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
৭নং ওয়ার্ড দরিচর গাজীপুর বিএনপি সাবেক সভাপতি কাওসারুল আলম বাবু জানান, পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে পূনর্বাসন করার জন্য এসব করা হচ্ছে।
এর আগেও একই পদ্ধতিতে পরিকল্পিতভাবে এলাকায় বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়ে এসব ঘটানো হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে।
চলতি বছরের ১৮ মে উল্লেখিত অভিযুুক্ত ব্যক্তিরা ওই এলাকার মো. নান্টু সিকদারকে একই কায়দার পিটিয়ে ও কুপিয়ে তার হাত ভেঙ্গে দেয়। এর আগে এলাকার বাচ্চু সিকদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
পাড়েরহাট ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আহতদের হাসপাতালে আমি খোঁজখবর নিয়েছি এবং থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্যানেল চেয়ারম্যান আ. রাজ্জাক হাওলাদারকে বিষয়টি খোঁজ খবর নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ঘটনায় দলীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
