ঘটনাস্থল পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী
জরিমানা আদায় করে রশিদ না দেওয়ার অভিযোগ ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে
পিরোজপুরের নেছারাবাদে (স্বরূপকাঠী) মোটর সাইকেল, জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সেবার গাড়ীসহ বিভিন্ন যাববাহন চালকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জরিমানা আদায় করে রশিদ না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে।
হেলমেট না থাকা, মেয়াদউত্তীর্ন কাগজসহ বিভিন্ন অভিযোগে পিরোজপুর ট্রাফিক পুলিশের সার্জন প্রসিকিউসন অফিসার মো. পলিটন মিয়া ওই জরিমানার টাকা নিয়েছেন। যানবাহন চালকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নগদ অর্থ জরিমানা করে নিয়ম অনুযায়ী কাউকেই তিনি আদায় রশিদ (মানি রিসিভ) দেননি।
গত ২৬ জুলাই নেছারাবাদ উপজেলার থানার তিন রাস্তার মোড়ে গাড়ী আটক করে ওই অর্থদন্ড দেয়া হয়। মোটর সাইকেল আরোহীর সঙ্গে ডকুমেন্টস না থাকায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী অপরাধে ওই জরিমানা নেয়া হয়েছে। জরিমানা আদায় করে কাউকেই মানি রিসিভ না দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা কড়া সমালোচনা করছেন। অবশ্য সার্জন মো. পলিটন মিয়া বলেছেন ভিন্নকথা। তিনি বলেছেন, নেছারাবাদবাসীর দুর্ভোগ লাগবের জন্য তাৎক্ষনিক মামলা ভাঙিয়ে জরিমানার টাকা নগদ নিয়ে গাড়ী ফেরৎ দেয়া হয়েছে। পরে আমি পিরোজপুর এসে টাকা জমা দিয়েছি। তবে জরিমানা পরিশোধের সময়ে মানি রিসিভ না দেয়ার বিষয়ে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেন নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বরেন, আমি সবসময় সাথে গাড়ীর কাগজ এবং হেলমেট নিয়ে বের হই। ঘটনার দিন বাসার একটি জরুরী কাজে মোটর সাইকেল নিয়ে বের হই। আমার বাসা থেকে মাত্র ৫ মিনিটের পথ বাজারের দূরত্ব। গাড়ী নিয়ে থানা সড়ক যাওয়া মাত্র সার্জন পলিটন আমার গাড়ী আটক করে কাগজ এবং হেলমেট দেখতে চান। এসময় কাগজ এবং হেলমেট দেখানোর জন্য আমি ৪ মিনিট সময় চেয়েছিলাম। তিনি কোন কথা না শুনে হাতে একটি মামলার কাগজ ধরিয়ে ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলেন। টাকা জোগাড় করে থানায় সামনে গেলে তিনি থানার ডিউটি অফিসারের রুমে বসে টাকা এবং ওই মামলার কাগজ নিয়ে আমাকে গাড়ী দিয়ে দেন। তবে সার্জন জরিমানা পরিশোধের আমাকে কোন মানি রিসিভ দেননি।
একটি ঔষধ কম্পানীর চাকরিরত একজন রিপ্রেনজটেটিভ গোপাল হালদার বলেন, আমার সাথে কোন হেলমেট ছিল না। গাড়ী আটকে একটি মামলার কাগজ দেন সার্জন পলিটন। বলেন তিন হাজার টাকা পরিশোধ করেন। আমি টাকা দিয়ে গাড়ী নেই। তবে সেই টাকার বিনিময়ে আমাকে কোন রিসিভ দেয়া হয়নি।
মো. জুবায়ের নামে একজন এ্যাম্বুলেন্স চালক অভিযোগ করেন, আমি উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিমপাড়ে যাচ্ছিলাম দুইজন এমারজেন্সি রোগী আনার জন্য। এসময় সার্জন আমার গাড়ী আটকে কাগজ দেখে বলেন তোমার কাগজের মেয়াদ নেই। পরে আমার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে গাড়ী ছেড়ে দেন। তবে সেই জরিমানা পরিশোধের কোন মানি রিসিভ দেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সার্জন মো. পলিটন মিয়া বলেন, আমি ওইদিন যেসব গাড়ীর বৈধ কাগজ, হেলমেট ছিলনা আইন অনুযায়ী মামলা দিয়ে জরিমানা নিয়েছি। তবে দিনটি শনিবার থাকায় ব্যাংক বন্ধ বিধায় টাকা জমা দিতে পারিনি। এজন্য কাউকে মানি রিসিভ দিতে পারিনি। এখন টাকা জমা দিতে পেরেছি। কেউ মানি রিসিভ চাইলে পিরোজপুর এসে নিয়ে যাবে।
পিরোজপুর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. মনিরুজ্জামান জানান, কাউকে মামলা দিয়ে জরিমানা করলে ব্যাংকের মাধ্যমে সেই জরিমানার টাকা দন্ডপ্রাপ্ত লোককে পরিশোধ করে ব্যাংকের রিসিভ নিয়ে এসে গাড়ী ছাড়াতে হবে। তবে এর উল্টো যদি হয়ে থাকে বিষয়টি দেখবো।
পিরোজপুর পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ আবু নাসের জানান, আমার কাছে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইননুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
